সংসদে মোদী-শাহকে গঙ্গাজলে ধুয়ে দিলেন কল্যাণ! ছাড়লেন না চন্দ্রবাবুর বউকেও?

গতকাল ছিল রাহুল গান্ধীর ইনিংস। আর আজ যেন সেই মারকুটে বিরোধিতার ইনিংসকে আরও এগিয়ে নিয়ে গেলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। আক্রমণের অভিমুখ সেই নরেন্দ্র মোদী…

গতকাল ছিল রাহুল গান্ধীর ইনিংস। আর আজ যেন সেই মারকুটে বিরোধিতার ইনিংসকে আরও এগিয়ে নিয়ে গেলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। আক্রমণের অভিমুখ সেই নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ। শেয়ার বাজারের দুর্নীতি থেকে রাজ্যের ক্ষমতায় নাক গলানো, জল বন্টন ইস্যুতে যেন গঙ্গা জলেই একেবারে ধুয়ে দিলেন মোদী-শাহ জুটিকে। কল্যাণ(Kalyan Banerjee) বচনে রীতিমতো সংসদের অভ্যন্তরে এখন লাইমলাইটে তার দল তৃণমূল কংগ্রেস।

আক্রমণাত্মক বক্তা হিসাবে বরাবরই সুনাম কুড়িয়েছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ (Kalyan Banerjee)। তিনবার পেরিয়ে এবার চারবারেও সংসদ কক্ষের অভ্যন্তরে তার জোরালো আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। গতকাল হিন্দুত্বকে নিয়ে রাজনীতির অভিযোগে বিজেপিকে আক্রমণ শাণিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। আজকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগে যে শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে যেন মারকুটে মেজাজে ব্যাটিং শুরু করলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। একেবারে সোজা সাপটা অভিযোগের তীর নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের দিকে।

   

চন্দ্রবাবুর ‘খেলা’য় ঘুম ওড়ার জোগার মোদীর! দেখা করতে চান কংগ্রেসী মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে

কল্যাণের অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ তার একান্ত ব্যক্তিগত মিটিং এ বলেছেন যে জুনের ৪ তারিখের আগেই শেয়ার কেনা-বেচা সামলে নেওয়ার। কারণ তাঁদের নাকি ভবিষ্যদ্বাণী ছিল শেয়ার বাজার সেসময় একেবারে চড়া থাকবে। কল্যানের প্রশ্ন, আগে থেকে কি করে জানলেন এই সমস্ত কথা বিজেপির দুই হেভিওয়েট? তার মানে কি পুরো ব্যাপারটাই পরিকল্পিত ছিল? তাঁর আরও অভিযোগ, এই ষড়যন্ত্রের ফলেই লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরেই মার্কেট থেকে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৩৬ লক্ষ কোটি টাকা বেমালুম গায়েব হয়ে গিয়েছে। কল্যাণের দাবি এই গোটা বিষয়টার দায় নিতে হবে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ কে।

শুধু নরেন্দ্র মোদী বা অমিত শাহকে আক্রমণ করেই ক্ষান্ত হননি কল্যান। এনডিএর জোট সঙ্গী টিডিপির সুপ্রিমো চন্দ্রবাবু নাইডুর স্ত্রীকেও নামা না করে আক্রমণ শাণিয়েছেন। এক্সিট পোল ঘোষণার পরপরই নাইডুদের পারিবারিক কোম্পানি শেয়ার কেনাবেচা থেকে এক লপ্তে প্রায় ৫৬০ কোটি টাকারও বেশি কামিয়ে নিয়েছিল। এই ব্যপারটিও সন্দেহজনক নয়? প্রশ্ন কল্যাণের। একাধিক নামকরা মিডিয়াকে প্রভাবিত করে নিজেদের স্বার্থে এক্সিট পোল করা হয়েছে বলেই তাঁর অভিযোগ। সংসদে দাঁড়িয়ে স্পিকারের সামনে তার স্পষ্ট দাবি, গোটা বিষয়টার তদন্ত এক্ষুনি শুরু করা দরকার। কল্যাণের আরও দাবি, এটা একটা বড়সড় চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র এবং দুর্নীতি। যার একটি উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত করা উচিত এবং দোষীদের সামনে নিয়ে আসা উচিত।

রাহুলের এক ভাষণেই কুপোকাত বিজেপি? গুরুত্ব আঁচ করে জবাবি আসরে মোদী

শুধু জাতীয় ক্ষেত্রে নয় পশ্চিমবঙ্গ নিয়েও রীতিমতো সোচ্চার হয়েছেন কল্যাণ। পশ্চিমবঙ্গে একাধিক মিডিয়ার দেখানো এক্সিট পোলের সঙ্গে বাস্তবের ফলের আকাশ-পাতাল গরমিল নিয়ে তার অভিযোগ যে এটাও কি তাহলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত? শুধু এক্সিট পোল নয় এবার জলের জলঘোলা নিয়েও জোরালো সওয়াল কল্যাণের। রাজ্যের ক্ষমতায় অনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন কল্যাণ। তিস্তা জল বন্টন এবং গঙ্গার জল নিয়ে একতরফাভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিকে রীতিমতো কাঠগড়ায় তুলেছেন শ্রীরামপুরের চারবারের সংসদ। শেয়ার থেকে শুরু করে গঙ্গার জল, ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষের একেবারে ছক্কা ছাড়িয়ে দিয়েছেন কল্যাণ, এমনটাই বলছেন তার দলের অন্যান্য সাংসদেরা।

তবে সংসদে কল্যাণের এরকম চোখে পড়ার মতো কাজকর্ম নতুন নয়। গত শীতকালীন অধিবেশনেই রীতিমত উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার স্পিকার জগদীপ ধনখড়ের মিমিক্রি করে তিনি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের শিরোনামে এসেছেন। তবে শেয়ার বাজার দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূলের ঘোষিত লড়াইয়ের বার্তা সংসদের অভ্যন্তরে দিয়ে তৃণমূলের আওয়াজকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন কল্যাণ এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের অনেকে। ইন্ডিয়া জোটের মধ্যেই এখনমোদী বিরোধিতার প্রতিযোগিতা চলছে বলে তাঁদের অভিমত । তাঁদের মতে প্রথম রাউন্ডে কংগ্রেস এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয় রাউন্ডে কল্যাণের সৌজন্যে তৃণমূল কংগ্রেসও কিন্তু পাল্লা দিচ্ছে।