লখনউ: উত্তরপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ আবারও চর্চায় (Labhkush Mishra)। এবার নজরে এসেছে অযোধ্যার রাম মন্দির দান কেলেঙ্কারির অভিযুক্ত লবকুশ মিশ্র। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পত্তির অভিযোগে নোটিশ জারি করেছে প্রশাসন। সাধারণ বেতনের কর্মচারী হয়েও লবকুশ ১০০০ বর্গফুটের বিলাসবহুল আধা-নির্মিত বাড়ি বানিয়েছেন, যার জন্য জমি ও নির্মাণে খরচ হয়েছে এক কোটি টাকারও বেশি।
পুলিশ তার কাছ থেকে উদ্ধার করেছে ১৪ লক্ষ টাকারও বেশি নগদ অর্থ।অযোধ্যার রাম লল্লা মন্দিরের দানবাক্স থেকে চুরির ঘটনায় লবকুশ মিশ্রের নাম জড়িয়ে পড়ার পরই তার আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে শুরু করে প্রশাসন। তদন্তে দেখা যায়, সাধারণ বেতনভোগী হিসেবে তার আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের কোনো মিল নেই।
আরও দেখুনঃ সন্ত্রাসবাদেই চুক্তি স্থগিত, সিন্ধু জল নিয়ে পাক হুমকি উড়িয়ে জবাব ভারতের
লখনউ-সহ বিভিন্ন জায়গায় তার সম্পত্তির হিসাব মিলিয়ে দেখা গেছে যে, তিনি যেভাবে বিলাসবহুল বাড়ি তৈরি করছেন, তা তার আয়ের সীমার বাইরে। এরপরই প্রশাসন তাকে নোটিশ পাঠিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লবকুশ মিশ্রের বাড়ির নির্মাণকাজ চলছে। ১০০০ বর্গফুটের এই বাড়িতে ব্যয় হয়েছে এক কোটি টাকারও বেশি। অথচ তার বৈধ আয়ের উৎস খুবই সীমিত। চুরির ঘটনার পর তার বাড়ি ও অন্যান্য জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করেছে ১৪ লক্ষ টাকারও বেশি নগদ অর্থ।
এই টাকার উৎস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।যোগী সরকারের ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ নীতি অনুসারে অবৈধ সম্পত্তির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বারবার বলেছেন, “অপরাধী হোক বা যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।” এই ঘটনায়ও সেই নীতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, লবকুশ মিশ্রকে সম্পত্তির উৎস ব্যাখ্যা করতে হবে। যদি অবৈধ বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও দেখুনঃ মধ্যপ্রদেশে গোটা গ্রাম চাই মুসলিমদের! হিন্দু দেবালয়কে কবরস্থান বলে ওয়াকফে ঢোকানোর দাবি
এই ঘটনা অযোধ্যার রাম মন্দির কেলেঙ্কারির তদন্তকে নতুন মোড় দিয়েছে। দানবাক্স থেকে চুরির ঘটনায় যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পত্তি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লবকুশ মিশ্রের ক্ষেত্রে যেভাবে দ্রুত অভিযান চালানো হয়েছে, তা প্রশাসনের সক্রিয়তার পরিচয় দিচ্ছে।স্থানীয় মানুষের মধ্যে এই অভিযান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে বলছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দান নিয়ে কেলেঙ্কারি অত্যন্ত নিন্দনীয়।
যারা এতে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, তদন্ত যেন নিরপেক্ষ হয় এবং কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন।উত্তরপ্রদেশ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লবকুশ মিশ্রের সঙ্গে আরও কয়েকজনের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার ব্যাঙ্ক লেনদেন, সম্পত্তির কাগজপত্র সব পরীক্ষা করা হবে।
যদি বিদেশি অর্থ বা অন্য কোনো অবৈধ উৎসের সন্ধান মেলে, তাহলে মামলা আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।যোগী সরকারের এই অভিযান রাজ্যজুড়ে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পত্তির বিরুদ্ধে একটি বার্তা দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “অপরাধ করলে কেউ রেহাই পাবে না।” রাম মন্দিরের মতো পবিত্র স্থানের দান নিয়ে কেলেঙ্কারি হলে তা সমগ্র সমাজের ভাবাবেগে আঘাত করে। তাই প্রশাসন এ বিষয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস।


