কোচিংয়ে ভয়াবহ আগুনের জের! সিল করা হল খান স্যারের ইনস্টিটিউট

লখনউ: লখনউয়ের আলিগঞ্জে কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর উত্তরপ্রদেশ (Khan Sir)জুড়ে শুরু হয়েছে কঠোর অভিযান। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আগুনে ১৫ জনের প্রাণহানি ঘটার ঘটনায়…

khan-sir-institute-sealed-after-lucknow-fire

লখনউ: লখনউয়ের আলিগঞ্জে কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর উত্তরপ্রদেশ (Khan Sir)জুড়ে শুরু হয়েছে কঠোর অভিযান। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আগুনে ১৫ জনের প্রাণহানি ঘটার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই ছিলেন কিশোর-কিশোরী, যারা ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। এই ঘটনার পরই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে রাজ্য প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।

ফায়ার সেফটি, বিল্ডিং নিয়ম, বেসমেন্ট ব্যবহারসহ বিভিন্ন লঙ্ঘনের অভিযোগে একের পর এক কোচিং সেন্টার সিল করা শুরু হয়।এই অভিযানে উল্লেখযোগ্যভাবে সিল হয়েছে জনপ্রিয় শিক্ষক খান স্যারের প্রতিষ্ঠান। প্রয়াগরাজে (এলাহাবাদ) খান গ্লোবাল ক্লাসেস-এর শাখা সিল করে দিয়েছে প্রশাসন। অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটিতে ফায়ার এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) ছিল না এবং নিরাপত্তা মান যথাযথভাবে মানা হয়নি।

   

আরও দেখুনঃ ভারতীয় ক্রিকেটে অনন্য অবদান! হিটম্যানের হাতে পদ্মশ্রী

খান স্যারের মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের প্রতিষ্ঠান সিল হওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে যেমন অনেকে বলছেন নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস চলবে না, অন্যদিকে অনেক ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নিয়ে।প্রয়াগরাজ ছাড়াও কানপুর, বারাণসী, নয়ডা, মথুরা, হাপুরসহ বিভিন্ন জেলায় তল্লাশি চলছে। খবর অনুসারে, রাজ্যজুড়ে মোট ৮৪টিরও বেশি কোচিং সেন্টার সিল করা হয়েছে।

কানপুরে একাই ২২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ফিজিক্স ওয়ালাহ-র মতো জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। অনেক জায়গায় বেসমেন্টে ক্লাস চালানো, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অভাব, জরুরি বহির্গমন পথ না থাকা ইত্যাদি কারণে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং সিল করা হয়েছে।লখনউয়ের ঘটনাটি ছিল একটি তিনতলা বাণিজ্যিক ভবনে। নিচতলায় পোষ্যপ্রাণীর দোকান ও ক্লিনিক ছিল, উপরে কোচিং চলছিল।

আগুন লাগার পর ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে ও ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে অনেকে প্রাণ হারান। এই ঘটনায় তিন মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং কয়েকজন আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিজে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতদের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেন এবং এসআইটি তদন্তের নির্দেশ দেন।এই অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, উত্তরপ্রদেশের কোচিং হাবগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা শিথিল ছিল।

হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী দূর-দূরান্ত থেকে এসে এখানে থেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু বেআইনি নির্মাণ, অতিরিক্ত ভিড় এবং ন্যূনতম নিরাপত্তা না মানার কারণে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রশাসন এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। শুধু কোচিং নয়, হোটেল, হাসপাতাল ও জিমসহ অন্যান্য বহুতল ভবনেও তল্লাশি চলছে।