কেরলে পুলিশের অভিযান! ‘মাশা আল্লাহ’ লেখা বাড়িতে উদ্ধার হামাস-স্টাইল সুড়ঙ্গ- বিপুল মাদক

তিরুবনন্তপুরম: কেরলের শান্ত গ্রামীণ এলাকায় একটি সাধারণ (Kerala)বাড়ির সামনে লেখা ‘মাশা আল্লাহ’ শব্দ দুটি যেন সবার চোখ এড়িয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পুলিশের কাছে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য।…

kerala-drug-tunnel-raid

তিরুবনন্তপুরম: কেরলের শান্ত গ্রামীণ এলাকায় একটি সাধারণ (Kerala)বাড়ির সামনে লেখা ‘মাশা আল্লাহ’ শব্দ দুটি যেন সবার চোখ এড়িয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পুলিশের কাছে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানো এক অভিযানে পুলিশ সেই বাড়িতে ঢুকে যা দেখল, তা যেকোনো অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকেও চমকে দিতে যথেষ্ট। বাড়ির ভিতরে খুঁজে পাওয়া গেল হামাস-স্টাইলের সুড়ঙ্গ এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য।

এই ঘটনা পুর রাজ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, কেরলের একটি জেলায় অবস্থিত এই বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহের তালিকায় ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বাড়ির মালিক একজন মধ্যবয়সী ব্যক্তি, যিনি সাধারণ জীবনযাপন করতেন বলে মনে হতো। বাইরে থেকে দেখলে বোঝার উপায় ছিল না যে, এই বাড়ির নিচে লুকিয়ে আছে এক অন্ধকার জগৎ।

   

আরও দেখুনঃ মেলবোর্ন সফরের আগেই মোদীকে মৃত্যু হুমকিতে চাঞ্চল্য

সামনের দরজার উপরে সুন্দর করে লেখা ‘মাশা আল্লাহ’ শব্দটি যেন একটা আড়াল তৈরি করেছিল। অভিযানের সময় পুলিশ প্রথমে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি করে। সেখান থেকে উদ্ধার হয় কয়েক কেজি গাঁজা, এমডিএমএ এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ মাদক। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ছিল বাড়ির রান্নাঘরের এক কোণে লুকানো সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ। পুলিশ যখন সেটি খুলে দেখে, তখন তাদের চোখ কপালে উঠে যায়।

সুড়ঙ্গটি প্রায় ৫০-৬০ মিটার লম্বা, যথেষ্ট প্রশস্ত এবং পেশাদারভাবে খনন করা। ভিতরে আলোর ব্যবস্থা, বাতাস চলাচলের জন্য ভেন্টিলেশন এবং এমনকি ছোট ছোট স্টোরেজ কম্পার্টমেন্টও ছিল। কর্মকর্তারা বলছেন, এটি দেখতে অনেকটা গাজায় হামাসের ব্যবহৃত সুড়ঙ্গের মতোই। সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে আরও মাদকের স্তূপ পাওয়া গেছে, যার আনুমানিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, এই সুড়ঙ্গটি সম্ভবত মাদক চোরাচালানের জন্য ব্যবহার করা হতো। হয়তো পুলিশের নজর এড়িয়ে অন্য এলাকায় মাদক সরবরাহ করা হতো এর মাধ্যমে। বাড়ির মালিক এবং তার সহযোগীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এটি শুধু একটি বাড়ির ঘটনা নয়, বরং একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্কের অংশ হতে পারে। কেরল পুলিশের ‘অপারেশন তুফান’-এর অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে, যেটি রাজ্যজুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান।