তিরুবনন্তপুরম: কেরলে অবৈধ অনুপ্রবেশের আরেকটি ঘটনা সামনে এসেছে। (Kerala)বাংলাদেশি নাগরিক মশিউর খান নামে এক যুবককে কোল্লাম জেলা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি শরিয়তুল ইসলাম মাদ্রাসায় থেকে পড়াশোনা করছিলেন বলে জানা গেছে। তাঁর কাছ থেকে জাল আধার কার্ড, ভোটার আইডি এবং রেশন কার্ড উদ্ধার হয়েছে।পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মশিউর খানকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে, তিনি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। করলে এসে তিনি ওই মাদ্রাসায় আশ্রয় নেন এবং সেখানে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। জাল নথি তৈরি করে স্থানীয়ভাবে বসবাসের চেষ্টা করছিলেন।কোল্লাম জেলার পুলিশ সুপার বলেন, “আমরা এই ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছি। এই যুবকের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া জাল নথিগুলো দেখে মনে হয়েছে, এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ হতে পারে।
আরও দেখুনঃ দোরগোড়ায় ডিলিমিটেশন! রাজ্যসভায় ঐতিহাসিক সংখ্যাগরিষ্টতার কাছাকাছি NDA জোট
আমরা পুরো বিষয়টি তদন্ত করছি।” পুলিশ আরও জানিয়েছে, মশিউর খানের সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এই ঘটনা কেরলের সামাজিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কেরল একসময় শিক্ষা ও শান্তির জন্য পরিচিত ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং জাল নথির ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অবৈধ বাসিন্দাদের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠছে।
অনেকে দাবি করছেন, মাদ্রাসাগুলোতে আরও কঠোর নজরদারি চালানো উচিত।শরিয়তুল ইসলাম মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলেছে, তারা জানতেন না যে মোশিউর খান অবৈধভাবে এখানে আছেন। তাঁরা জাল নথির কথা অস্বীকার করে বলেছেন, শিক্ষার্থীদের ভেরিফিকেশনের সময় কোনো অসঙ্গতি ধরা পড়েনি। তবে পুলিশ তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে।কেরল পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজ্যে অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ বাংলা থেকে পালিয়েও হল না শেষরক্ষা! গুরুগ্রাম থেকে পুশব্যাক ১৩ বাংলাদেশি
সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলো থেকে যারা অবৈধভাবে ঢোকেন, তারা পরে কেরল, তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকের মতো রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েন। জাল আধার, ভোটার কার্ড ও রেশন কার্ড তৈরি করে তারা স্থানীয়ভাবে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করেন।এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি করেছে। বিরোধী দলগুলো সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেছে, “অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে রাজ্য সরকার ব্যর্থ।” অন্যদিকে শাসক দল বলছে, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তারা এই সমস্যা মোকাবিলা করছে।





