কাশ্মীর উপত্যকায় বাড়ি বাড়ি চলছে সন্ত্রাসবাদী ফান্ডিংয়ের তল্লাশি

শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স কাশ্মীর (Kashmir terror funding) ইউনিট বুধবার কাশ্মীর উপত্যকাজুড়ে এক বিশাল অভিযান চালিয়েছে। একই সঙ্গে ২২টি স্থানে তল্লাশি চালানো…

kashmir-terror-funding-search-mule-bank-accounts

শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স কাশ্মীর (Kashmir terror funding) ইউনিট বুধবার কাশ্মীর উপত্যকাজুড়ে এক বিশাল অভিযান চালিয়েছে। একই সঙ্গে ২২টি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে, যার মধ্যে শ্রীনগরেই ১৫টির বেশি। এই অভিযানের লক্ষ্য সাইবার-টেরর তদন্তের অংশ হিসেবে ‘মিউল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট’ নামে পরিচিত নেটওয়ার্ক, যা সাইবার ফ্রডের টাকা সন্ত্রাসবাদী ফান্ডিংয়ে চ্যানেল করতে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ।

Advertisements

এটি কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদের আর্থিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার দিকে এক বড় পদক্ষেপ।সকাল থেকেই সিআইকে-র একাধিক টিম স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় শ্রীনগর, বুদগাম, শোপিয়ান, কুলগাম সহ উপত্যকার বিভিন্ন জেলায় একযোগে অভিযান শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এফআইআর দায়েরের পর এই অভিযান চালানো হয়েছে। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, অনলাইন স্ক্যাম, অবৈধ বেটিং এবং গেমিং প্ল্যাটফর্ম থেকে আয় করা কালো টাকা এই মিউল অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে স্তরে স্তরে স্থানান্তরিত হয়ে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে ব্যবহৃত হচ্ছে।

   

SIR শুনানিতে বিদেশি পড়ুয়া ও পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ

মিউল অ্যাকাউন্ট বলতে এমন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বোঝায়, যা গরিব, বেকার বা অজান্তে কিছু ব্যক্তির নামে খোলা হয় এবং অপরাধীরা সেগুলো ব্যবহার করে টাকা লুকিয়ে রাখে বা স্থানান্তর করে। এতে সাধারণ মানুষও অজান্তে অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।অভিযানে সিআইকে টিমগুলো মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্টোরেজ ডিভাইস, আর্থিক নথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল বাজেয়াপ্ত করেছে।

এগুলো পরীক্ষা করে টাকার প্রবাহের ট্রেল খুঁজে বের করা হবে, যাতে পুরো নেটওয়ার্কটি ধ্বংস করা যায়। পুলিশের এক আধিকারিক বলেছেন, “এই অভিযান সাইবার ক্রাইম এবং সন্ত্রাসবাদের মধ্যে সেতুবন্ধন ভাঙার লক্ষ্যে। ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের অপব্যবহার সরাসরি অপরাধ এবং সন্ত্রাসকে জ্বালানি যোগায়।” যদিও এখনও কোনো গ্রেফতারের খবর নিশ্চিত হয়নি, তবে সন্দেহভাজন অ্যাকাউন্ট হোল্ডার, মধ্যস্থতাকারী এবং হ্যান্ডলারদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদের ফান্ডিংয়ের ধরন বদলে গেছে। আগে হাওয়ালা বা নগদ লেনদেন বেশি হলেও এখন ডিজিটাল পেমেন্ট এবং সাইবার ফ্রডের মাধ্যমে টাকা আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি পরিশীলিত সিন্ডিকেটের কাজ যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফ্রডের টাকা কাশ্মীরে এসে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর হাতে পৌঁছায়। এমনকি ক্রস-বর্ডার লিঙ্কের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এই অভিযান সেই নেটওয়ার্কের গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা।এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটাকে শান্তি ফেরানোর পদক্ষেপ বলে স্বাগত জানিয়েছেন, আবার কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে নিরীহ মানুষ জড়িয়ে পড়তে পারেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জোর দেওয়া হয়েছে যে তদন্ত স্বচ্ছ এবং কেবল অপরাধীদের লক্ষ্য করা হচ্ছে।

এই ধরনের অভিযান কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদের আর্থিক শিরা কেটে দেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিআইকে-র এমন অভিযানে একাধিক হাওয়ালা নেটওয়ার্ক ধ্বংস হয়েছে, কিন্তু সাইবার যুগে নতুন চ্যালেঞ্জ এসেছে।

Advertisements