লাদাখ: কার্গিলের পাহাড়ি রাস্তায় আজ সকাল থেকে নেমেছে প্রতিবাদীদের ঢল (Kargil protest)। লাদাখের এই শিয়া-অধ্যুষিত জেলায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইয়ের হত্যার প্রতিবাদে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তিনি শহীদ হয়েছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া নিশ্চিত করতেই এখানকার শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোক আর ক্রোধের ঢেউ উঠেছে।
কার্গিলের মূল রাস্তা, মসজিদের সামনে, বাজার এলাকা সব জায়গায় কালো পতাকা, লাল-কালো ব্যানার আর খামেনেইয়ের ছবি হাতে মানুষের ঢল।গতকাল রাতে তেহরানে ব্যাপক হামলা চালানো হয়। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেন যে, এই অভিযান ইরানের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করার জন্য। ইরান পরে নিশ্চিত করে যে, ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ খামেনেই এই হামলায় নিহত হয়েছেন।
আরও দেখুনঃ করাচির দূতাবাসে হামলাকারী ১০ পাকিস্তানিকে গুলি করে মারল পাক-মার্কিন সেনা
তাঁর সঙ্গে পরিবারের সদস্য, শীর্ষ নেতা ও সেনা কর্মকর্তারাও শহীদ। ইরান ৪০ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং প্রতিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই খবর লাদাখের কার্গিলে পৌঁছতেই ভোররাত থেকে মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন।কার্গিলের শিয়া সম্প্রদায়ের কাছে খামেনেই শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ধর্মীয় নেতা, যিনি ইসলামি বিপ্লবের আদর্শকে জীবন্ত রেখেছেন। এখানকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সঙ্গে আধ্যাত্মিক যোগাযোগ রেখে চলেছেন।
মহরম, আশুরার সময় ইরানের নেতাদের ছবি, বাণী প্রচারিত হয়। খামেনেইকে তারা ফিলিস্তিন, লেবানন, ইয়েমেনের প্রতিরোধের সমর্থক হিসেবে দেখেন। তাই তাঁর মৃত্যু এখানে ব্যক্তিগত ক্ষতির মতো লেগেছে। আজ সকালে হাজার হাজার মানুষ পুরুষ, নারী, যুবক রাস্তায় নেমে পড়েন। তারা নৌহা পড়ছেন, বুক চাপড়াচ্ছেন, স্লোগান দিচ্ছেন “খামেনেই শহীদ”, “মুর্দাবাদ আমেরিকা”, “মুর্দাবাদ ইসরায়েল”, “প্রতিশোধ নেব”।
কালো পতাকা উড়ছে, লাল পতাকা মার্টিরডমের প্রতীক হয়ে উড়ছে। অনেকে ব্যানার নিয়ে এসেছেন “শহীদ খামেনেই অমর”, “জুলুমের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে”।একজন স্থানীয় বাসিন্দা, যিনি নিজেকে হাসান বলে পরিচয় দেন, বললেন, “আজ আমাদের হৃদয় ছিন্নভিন্ন। খামেনেই ছিলেন মজলুমদের আশ্রয়। তিনি ফিলিস্তিনের জন্য লড়াই করেছেন, হিজবুল্লাহকে শক্তি দিয়েছেন।
এই হত্যা শুধু ইরানের নয়, পুরো শিয়া উম্মাহর ওপর আঘাত। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছি, কিন্তু আমাদের দুঃখ অসীম।” আরেকজন যুবক যোগ করেন, “এক খামেনেই মরলে হাজার খামেনেই জন্ম নেবে। তাঁর চিন্তা বেঁচে থাকবে।”প্রতিবাদগুলো মূলত শান্তিপূর্ণ। কার্গিলের মসজিদ থেকে মিছিল বেরিয়ে মূল রাস্তা দিয়ে এগোয়। লাদাখের এমপি মোহাম্মদ হানিফা জান এই হত্যাকে “বর্বর আক্রমণ” বলে নিন্দা করেছেন। নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, কিন্তু এখনও কোনো সংঘর্ষের খবর নেই। এলাকায় ভারী নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।



















