
কানপুর: কানপুরের কল্যাণপুর এলাকায় এক ভয়ংকর ও লজ্জাজনক ঘটনায় সমগ্র এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। (Kanpur minor assault)৬৫ বছরের প্রতিবেশী মহম্মদ ইজরায়েল নামে এক ব্যক্তি ৮ বছরের এক নাবালিকা মেয়েকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে পাশবিক অত্যাচারের চেষ্টা করেন। শিশুটির আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয় জনতা ছুটে এসে অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। তারপরই শুরু হয় ক্ষুব্ধ জনতার রোষ।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে উত্তেজিত মানুষজন অভিযুক্তকে বেধড়ক মারধর করছেন। অবশেষে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে গ্রেফতার করে।ঘটনাটি ঘটেছে কানপুরের কল্যাণপুর থানা এলাকার বৈরি আকবরপুরে। মহম্মদ ইজরায়েল কানপুর দেহাতের রুরা এলাকার বাসিন্দা। স্ত্রী ও ছেলে থাকলেও তিনি একা এই এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তিনি মৌলানা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
আরও দেখুনঃ ধর্ম বদলালেই শেষ সংরক্ষণ! তফশিলি জাতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়
মঙ্গলবার দুপুরের দিকে শিশুটি বাড়ির সামনে খেলছিল। অভিযুক্ত তাকে চকলেট দেওয়ার লোভ দেখিয়ে নিজের ঘরে ডেকে নেন। ভেতরে নিয়ে তিনি শিশুটির উপর যৌন নির্যাতনের চেষ্টা শুরু করেন। মেয়েটির চিৎকার শুনে আশেপাশের বাসিন্দারা ছুটে আসেন এবং দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। তখনই অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরা পড়ে।ক্ষুব্ধ জনতা তাকে রাস্তায় টেনে বের করে প্রচণ্ড মারধর শুরু করেন।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, লোকজন লাঠি, ঘুষি ও লাথি মেরে অভিযুক্তকে শাস্তি দিচ্ছেন। অনেকে চিৎকার করে বলছেন, “এমন নরপিশাচকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা উচিত।” পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পরীক্ষা চলছে।কানপুর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পকসো আইনের অধীনে মামলা দায়ের করেছে।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা, শিশু নির্যাতন ও অন্যান্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বয়স ৬৫ হলেও তার মানসিকতা অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কিছুটা স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে তদন্ত এখনও চলছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “এই ধরনের জঘন্য অপরাধের কোনো ক্ষমা নেই। আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”

