যোগী দাওয়াইতে শ্রীঘরে হাওয়ালা চক্রের পান্ডা আবদুল-সুবহান

kanpur-hawala-racket-abdul-subhan-arrest-1600-crore

কানপুর: এ যেন কেঁচো খুঁড়তে কেউটে। ছোট্ট একটি লুটের ঘটনা থেকে ফাঁস বড় হাওয়ালা চক্র (Kanpur hawala)। ঘটনা খোদ যোগী রাজ্যের কানপুরে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে চলছে হাওয়ালা চক্র, যার পরিমাণ শুনলে যে কারও মাথা ঘুরে যাবে। প্রায় ১,৬০০ কোটি টাকা! উত্তরপ্রদেশের এই শিল্পনগরীতে সাধারণত চামড়া ব্যবসা, ট্যানারি আর ছোটখাটো ব্যবসার কথা শোনা যায়, কিন্তু এবার পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট, যা বছরের পর বছর ধরে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ব্যাঙ্ক থেকে তুলে হাওয়ালার মাধ্যমে সরিয়ে দিয়েছে।

সবকিছু শুরু হয়েছে একটি মাত্র ৮ লক্ষ টাকার লুটের ঘটনা থেকে। শ্যাম নগর এলাকায় কয়েকজন লুটেরা একটি গাড়িতে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পুলিশ যখন তদন্ত শুরু করে, তখন দেখা যায় লুট হওয়া টাকা আসলে একজন ট্যানারি ব্যবসায়ী মাহফুজের কাছ থেকে এসেছে। ঘটনার দিনই মাহফুজ আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ফুলবাগ শাখা থেকে ৩.২০ কোটি টাকা নগদ তুলেছিলেন। লুটের মাস্টার মাইন্ড ওয়াসিদ ও তার সঙ্গী আরশাদ এই টাকার একটা অংশ প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন মাহফুজের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।

   

আরও দেখুন: হাঁসখালিতে এসআই-এর অপমৃত্যু! আত্মঘাতী নাকি খুন? তদন্তে পুলিশ প্রশাসন

পুলিশের জেরায় বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীরা দেখেন, মাহফুজের সঙ্গে যুক্ত ১৪টি অ্যাকাউন্ট থেকে শুধুমাত্র একই আইডিবিআই ব্যাঙ্কের সিভিল লাইন্স শাখা থেকেই গত আড়াই বছরে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা নগদ তোলা হয়েছে। আরও গভীরে গিয়ে পুলিশ আবিষ্কার করে যে, মাহফুজ ও তার সহযোগীরা মিলে ৬৮টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলেছেন ১২টি বিভিন্ন ব্যাঙ্কে। এসব অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ১,৬০০ কোটিরও বেশি টাকা নগদ তোলা হয়েছে।

আশ্চর্যের বিষয়, সব অ্যাকাউন্টের কেওয়াইসি ঠিকানা একই অর্থাৎ একই জায়গা ব্যবহার করে একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এতে সন্দেহ জাগছে ট্যাক্স ফাঁকি, মানি লন্ডারিং এবং সম্ভবত হাওয়ালা-সংক্রান্ত অবৈধ লেনদেনের। কিছু সূত্রে বলা হচ্ছে, এর পিছনে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত অর্থের সরানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।পুলিশ এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে আবদুল, সুবহান, লারেব, জিশান, ইয়াসিন ও মুজাহিদ।

এরা মাহফুজের সিন্ডিকেটের সদস্য বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তারা নগদ টাকা বহন, বিভাজন এবং হাওয়ালা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরানোর কাজে জড়িত ছিল। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এই চক্রটি শুধু টাকা তুলেই ক্ষান্ত হয়নি, সম্ভবত ক্রিকেট বেটিং, অবৈধ শেয়ার ট্রেডিং এবং অন্যান্য অবৈধ কারবারের সঙ্গেও যুক্ত। একই ধরনের আরও কয়েকটি হাওয়ালা চক্র কানপুরে আগেও ধরা পড়েছে, যেখানে কোটি কোটি টাকা ও রুপো উদ্ধার হয়েছে, কিন্তু এবারের পরিমাণ সত্যিই চমকে দেওয়ার মত।