জম্মু-কাশ্মীরের রাজস্ব বিভাগের নিয়োগ নিয়মে বাদ গেল উর্দু

jammu-kashmir-revenue-recruitment-urdu-removed

জম্মু: জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের একটি বড় সিদ্ধান্ত ঘিরে উপত্যকায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। (Jammu Kashmir)রাজ্যের রাজস্ব বিভাগের নিয়োগ নিয়মে উর্দু ভাষাকে বাধ্যতামূলক যোগ্যতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতদিন পাটোয়ারি, নাইব তহশিলদারসহ রাজস্ব বিভাগের বিভিন্ন নন-গেজেটেড পদে নিয়োগের জন্য গ্র্যাজুয়েশনের পাশাপাশি উর্দু জানা বাধ্যতামূলক ছিল। নতুন খসড়া নিয়োগ নিয়মে শুধু গ্র্যাজুয়েশনকেই ন্যূনতম যোগ্যতা রাখা হয়েছে।

এই পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে পিডিপি সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে ‘সংস্কৃতি ও ধর্মের ওপর আক্রমণ’ বলে অভিযোগ তুলেছে।পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) প্রধান মেহবুবা মুফতি বলেছেন, “উর্দু জম্মু-কাশ্মীরের প্রশাসনিক কাঠামোর মেরুদণ্ড ছিল। শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ভূমি দলিল, রাজস্ব রেকর্ড এবং সরকারি যোগাযোগের প্রধান ভাষা ছিল উর্দু। এর ভূমিকা কমিয়ে দেওয়া শুধু সাংস্কৃতিকভাবে অসংবেদনশীল নয়, প্রশাসনিক দিক থেকেও অযৌক্তিক।

   

আরও দেখুনঃরেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয়, এতটা বাজেট বাড়িয়েছে ভারত

বর্তমান রেকর্ডগুলো উর্দুতে রয়েছে। উর্দু না জানা কর্মীরা সেই দলিলপত্র সঠিকভাবে বুঝতে ও পরিচালনা করতে পারবেন না।” পিডিপি এই সিদ্ধান্তকে জম্মু-কাশ্মীরের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে দুর্বল করার একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে। দলটি নতুন খসড়া নিয়ম প্রত্যাহার করে উর্দুকে আবার বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে।অন্যদিকে, বিজেপি এই পরিবর্তনকে ‘কোর্স করেকশন’ বলে স্বাগত জানিয়েছে।

বিজেপি নেতারা বলছেন, জম্মু-কাশ্মীরে বর্তমানে পাঁচটি সরকারি ভাষা রয়েছে উর্দু, হিন্দি, কাশ্মীরি, ডোগরি ও ইংরেজি। উর্দুকে একমাত্র বাধ্যতামূলক করে অন্যান্য ভাষাভাষীদের প্রতি অন্যায় করা হয়েছিল। এখন যেকোনো একটি সরকারি ভাষায় দক্ষতা থাকলেই চাকরির যোগ্যতা অর্জন করা যাবে। বিজেপি নেতা অশোক কৌল বলেছেন, “উর্দু সরানো হয়নি, শুধু একমাত্র বাধ্যতামূলক ভাষা হিসেবে রাখা হয়নি। সব ভাষাকে সমান সুযোগ দেওয়া হয়েছে।”উর্দুর সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরের ইতিহাস গভীরভাবে জড়িত।

১৮৮৯ সালে মহারাজা প্রতাপ সিংহ পার্সিয়ানের পরিবর্তে উর্দুকে আদালতের ভাষা করেন। ১৯৪৭-এর পর জম্মু-কাশ্মীর গণপরিষদ উর্দুকে রাজ্যের লিঙ্ক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব বিভাগে উর্দু ছিল প্রধান ভাষা। কিন্তু ২০২০ সালে জম্মু-কাশ্মীর অফিসিয়াল ল্যাঙ্গুয়েজেস অ্যাক্ট পাস হওয়ার পর পাঁচটি ভাষাকে সমান মর্যাদা দেওয়া হয়। এরপর থেকেই উর্দুর একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক কাজকে আরও আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা। তবে বাস্তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের বেশিরভাগ পুরনো ভূমি রেকর্ড এখনও উর্দুতে লেখা। নতুন কর্মীরা যদি উর্দু না জানেন, তাহলে দলিলপত্র বোঝা ও রক্ষণাবেক্ষণে সমস্যা হতে পারে। অনেকে মনে করেন, উর্দুকে সম্পূর্ণ বাদ না দিয়ে ঐচ্ছিক রেখে অন্যান্য ভাষার সঙ্গে সমন্বয় করা উচিত ছিল।