
জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কড়া অভিযান অব্যাহত (Jammu Kashmir)। লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা আজ আরও পাঁচজন সরকারি কর্মচারীর চাকরি বাতিল করেছেন, যাদের হিজবুল মুজাহিদিন (HM) এবং লস্কর-ই-তৈয়বা (LET)-র সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
এই পাঁচজন হলেন মোহাম্মদ ইশফাক (শিক্ষক), তারিক আহমদ রাহ (ল্যাব টেকনিশিয়ান), বশির আহমদ মীর (অ্যাসিস্ট্যান্ট লাইনম্যান), ফারুক আহমদ ভাট (ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের ফিল্ড ওয়ার্কার) এবং মোহাম্মদ ইউসুফ (হেলথ ডিপার্টমেন্টের ড্রাইভার)।
ইংরেজবাজারে ফর্ম ৭ জমা নিয়ে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি
সূত্রের খবর, এই বাতিলের আদেশ ভারতীয় সংবিধানের আর্টিকেল ৩১১(২)(সি)-এর অধীনে জারি করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো তদন্ত ছাড়াই চাকরি থেকে বরখাস্ত করার অনুমতি দেয়। ২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৮৫ জনেরও বেশি সরকারি কর্মচারীকে এইভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে, যাদের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগসূত্র ছিল।
লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার এই পদক্ষেপকে সন্ত্রাসের সমর্থন ব্যবস্থা (টেরর ইকোসিস্টেম) ভেঙে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।অভিযোগ অনুযায়ী, মোহাম্মদ ইশফাক একজন সরকারি শিক্ষক, যিনি ২০১৩ সালে নিয়োগ পান। তাঁকে লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি পাকিস্তান-ভিত্তিক এলইটি কমান্ডার মোহাম্মদ আমিন ওরফে আবু খুবাইবের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।
২০২২ সালের এপ্রিলে গ্রেফতার হওয়ার পরও জেলে থেকে তিনি বন্দীদের মধ্যে উগ্রবাদ ছড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে খবর। শিক্ষক হিসেবে তরুণ মনের ওপর তাঁর প্রভাবকে গুরুতর হুমকি বলে মনে করা হচ্ছে।তারিক আহমদ রাহ, যিনি ২০১১ সালে কনট্রাকচুয়াল ল্যাব টেকনিশিয়ান হিসেবে যোগ দেন এবং ২০১৬ সালে স্থায়ী হন, তাঁর চাচা আমিন বাবা ওরফে আবিদ (এইচএম-এর প্রাক্তন ডিভিশনাল কমান্ডার)-এর প্রভাবে হিজবুল মুজাহিদিনের সঙ্গে যুক্ত হন।
তিনি ২০০৫ সালে আমিন বাবার পাকিস্তানে পালানোর পরিকল্পনায় সাহায্য করেন আশ্রয়, লজিস্টিক্স এবং চেকপয়েন্ট পার করার ব্যবস্থা করে দেন। বরখাস্তের পরও তাঁর যোগাযোগ অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগ।বশির আহমদ মীর, বান্দিপোরার গুরেজ সেক্টরের অ্যাসিস্টান্ট লাইনম্যান, লস্কর-ই-তৈয়বার ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার (ওজিডব্লিউ) হিসেবে চিহ্নিত। তিনি সরকারি বেতন নিয়ে গোপনে জঙ্গিদের সাহায্য করতেন বলে সূত্র।
ফারুক আহমদ ভাট, ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের ফিল্ড ওয়ার্কার, অনন্তনাগে কর্মরত ছিলেন। তিনি এইচএম-এর সঙ্গে যুক্ত এবং একজন প্রাক্তন এমএলএ-র সহায়ক হিসেবে কাজ করতেন। ২০০৫-এ আমিন বাবার পালানোর পরিকল্পনায় তাঁর ভূমিকা ছিল সরকারি আইডি কার্ড ব্যবহার করে চেকপয়েন্ট পার করে তাঁকে সীমান্তে পৌঁছে দেন। ২০২৪-এ গ্রেফতার হলেও ২০২৫-এ জামিন পেয়ে ফের যোগাযোগ রাখছেন।










