Monday, May 25, 2026
Home Bharat পহেলগাঁও হামলায় হামাস যোগ ঘিরে বাড়ল রহস্য

পহেলগাঁও হামলায় হামাস যোগ ঘিরে বাড়ল রহস্য

pahalgam-terror-attack-hamas-link-mystery

শ্রীনগর: ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের (Pahalgam terror)পহেলগাঁওয়ের বৈসরন ভ্যালিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলা দেশকে শোকস্তব্ধ করে দিয়েছিল। ২৬ জন নিরীহ পর্যটকের প্রাণহানি ঘটে এই নৃশংস ঘটনায়, যাদের অধিকাংশই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। হামলাকারীরা ধর্মীয় পরিচয় যাচাই করে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করেছিল যা অক্টোবর ৭, ২০২৩-এ ইজরায়েলে হামাসের হামলার সঙ্গে আশ্চর্যজনক মিল দেখিয়েছে।

- Advertisement -

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তদন্তে উঠে এসেছে পাকিস্তান-ভিত্তিক লশকর-ই-তাইয়েবা (LeT) এবং তার প্রক্সি গ্রুপ দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)-এর সরাসরি যোগাযোগ। কিন্তু সাম্প্রতিক প্রকাশিত তথ্য এই হামলার পিছনে আরও গভীর রহস্য উন্মোচিত করেছে। 

   

নাসা রইল অটুট, ট্রাম্পের বাজেট কাটছাঁট খারিজে কংগ্রেসের সবুজ সংকেত

হামাসের সঙ্গে পাকিস্তানি জঙ্গি গ্রুপগুলোর ক্রমবর্ধমান সংযোগ।সাম্প্রতিক একটি অপ্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, হামাসের সিনিয়র কমান্ডার নাজি জাহির পাকিস্তানের গুজরানওয়ালায় লশকর-ই-তাইয়েবার কমান্ডার রশিদ আলি সান্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন।

এই সাক্ষাৎ ঘটেছে পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগ (PMML)-এর এক অনুষ্ঠানে, যা লশকরের রাজনৈতিক ফ্রন্ট হিসেবে পরিচিত। এই ভিডিও প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, হামাস তার সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক বিস্তার করছে পাকিস্তানি সেনা ও আইএসআই-এর মদতে। নাজি জাহির সেই একই নেতা, যিনি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) সফর করেছিলেন, ঠিক পহেলগাঁও হামলার কয়েক সপ্তাহ আগে।

সেই সফরে তিনি লশকর ও জৈশ-ই-মহম্মদের কমান্ডারদের সঙ্গে যৌথ সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে ভারতবিরোধী বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল।গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানাচ্ছে, পহেলগাঁও হামলার কৌশল হেলমেট-মাউন্টেড বডি ক্যাম ব্যবহার করে ধর্মীয় পরিচয় যাচাই এবং অমুসলিমদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হামাসের অক্টোবর ৭ হামলার সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। হামলাকারী চার জঙ্গির মধ্যে দু’জন পাকিস্তানি নাগরিক ছিলেন, যারা পোক-এ লশকর ও জৈশের ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

সেখানে হামাসের প্রশিক্ষণ মডিউল স্থাপিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার এই মিলের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, “পাকিস্তানে হামাস নেতাদের আমন্ত্রণ একটি খারাপ লক্ষণ।” ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীও প্রথমবার হামাসকে লশকর ও জৈশের পাশাপাশি উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।এই সংযোগের পিছনে রয়েছে পাকিস্তানের গভীর রাষ্ট্রীয় মদত।

২০২৩ সালের অক্টোবর ৭ হামলার পর থেকে হামাসের প্রতিনিধি নাজি জাহির পাকিস্তানে স্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন। তিনি করাচি প্রেস ক্লাব থেকে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন সর্বত্র লশকর-জৈশের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়েছেন।

ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ রাওয়ালাকোটে ‘কাশ্মীর সলিডারিটি ডে’-তে হামাস নেতারা লশকর-জৈশ কমান্ডারদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নিয়েছিলেন। এমনকি বাহাওয়ালপুরে জৈশের হেডকোয়ার্টারে গোপন বৈঠকের খবরও প্রকাশ্যে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি নতুন ‘জিহাদি অ্যালায়েন্স’ যেখানে হামাসের আদর্শিক প্রভাব পাকিস্তানি জঙ্গিদের কাশ্মীরে নতুন কৌশল শিখিয়েছে।

Follow on Google