‘আগে নিজেদের ঘর দেখুন: অপারেশন সিঁদুর নিয়ে পশ্চিমি দুনিয়াকে কড়া জবাব জয়শঙ্করের

লুক্সেমবার্গ: পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সামরিক পদক্ষেপ তথা ‘অপারেশন সিন্দুর’ (Operation Sindoor) নিয়ে পশ্চিমি দেশগুলোর নেতিবাচক মন্তব্যের পাল্টা কড়া জবাব দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বর্তমানে…

S Jaishankar on terrorism

লুক্সেমবার্গ: পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সামরিক পদক্ষেপ তথা ‘অপারেশন সিন্দুর’ (Operation Sindoor) নিয়ে পশ্চিমি দেশগুলোর নেতিবাচক মন্তব্যের পাল্টা কড়া জবাব দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বর্তমানে লুক্সেমবার্গ সফরে থাকা বিদেশমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, আজকের বিশ্বে পশ্চিমি দেশগুলো কেবল নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে মাঠে নামে, অথচ ভারতকে ‘বিনা মূল্যে উপদেশ’ (Free Advice) বিলি করে।

‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং পশ্চিমি শঙ্কা

২০২৫ সালের মে মাসে পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর পর ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করে। ভারতের ত্রি-শক্তির সম্মিলিত এই অভিযানে পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) নয়টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং শতাধিক জঙ্গিকে খতম করা হয়।

   

এই অভিযানের সময় পশ্চিমি দেশগুলো দক্ষিণ এশিয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল। এর জবাবে জয়শঙ্কর প্রশ্ন তোলেন, “আপনারা কি নিজেদের অঞ্চলের সহিংসতার মাত্রা নিয়ে কখনও প্রশ্ন তুলেছেন? আপনারা যা করছেন তা নিয়ে সারা বিশ্ব কতটা চিন্তিত তা কি কখনও ভেবে দেখেছেন?” তিনি মনে করিয়ে দেন যে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অনেকেই এক কথা বলে আর অন্য কাজ করে।

আমেরিকার ভেনেজুয়েলা অভিযান ও ট্রাম্পের দাবি Jaishankar slams western hypocrisy

জয়শঙ্করের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে কারাকাস থেকে বন্দি করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জয়শঙ্কর পরোক্ষভাবে এই ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে পশ্চিমি দ্বিচারিতাকে কটাক্ষ করেন।

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে আমেরিকার মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। কিন্তু নয়াদিল্লি প্রথম থেকেই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দিয়েছে, ভারত কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় বিশ্বাসী নয়।

নিজের নীতিতে অনড় ভারত

জয়শঙ্কর জোর দিয়ে বলেন যে, পশ্চিমি দেশগুলো যখন নিজেদের স্বার্থে কাজ করতে পারে, তখন ভারতেরও উচিত তাদের মন্তব্যে বিচলিত না হয়ে নিজস্ব বিদেশনীতি অনুসরণ করা। তিনি বলেন, “আমাদের এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে যে ওরা উপদেশ দেবেই, কিন্তু ভারতকে তার নিজের লক্ষ্যেই অবিচল থাকতে হবে।”