নয়াদিল্লি: আজ, ২৯ জুলাই সারা বিশ্বের মতো ভারতেও পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস (International Tiger Day 2026)। বাঘ সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা এবং বন্য বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়।
২০১০ সালের নভেম্বরে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ টাইগার সামিটে আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সম্মেলনে ভারত-সহ ১৩টি বাঘ-অধ্যুষিত দেশ Tx2 লক্ষ্য গ্রহণ করেছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বে বন্য বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করা।
আরও পড়ুন : শাবক-সহ ১২ বাঘিনী ক্যামেরাবন্দি, সুন্দরবনে বাড়তে পারে বাঘের সংখ্যা
বিশ্বে বেড়েছে বাঘের সংখ্যা
২০১০ সালে বিশ্বজুড়ে বন্য বাঘের সংখ্যা ছিল আনুমানিক ৩,২০০। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৫,৭১১, অর্থাৎ প্রায় ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্বের ৭০ শতাংশ বাঘ এখন ভারতে
বাঘ সংরক্ষণে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সফল দেশ হিসেবে উঠে এসেছে ভারত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট বন্য বাঘের প্রায় ৭০ শতাংশই ভারতের বনাঞ্চলে বাস করে।
প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণ নীতি, কঠোর চোরাশিকার বিরোধী ব্যবস্থা এবং স্থানীয় মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে এই সাফল্য এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরেও বাঘ ও তাদের আবাসস্থল রক্ষায় সহযোগিতা বাড়িয়ে চলেছে ভারত।

বাঘ দিবসে শুভেচ্ছা রাষ্ট্রনেতাদের
আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উপরাষ্ট্রপতি সি. পি. রাধাকৃষ্ণন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব।
উপরাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের সর্বাধিক বন্য বাঘের আবাসস্থল হিসেবে ভারতের এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে বনকর্মী, বিজ্ঞানী, সংরক্ষণবিদ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সামাজিক মাধ্যমে বার্তায় জানান, বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ বন্য বাঘের আবাস ভারত। তিনি বনকর্মী, বিজ্ঞানী ও সংরক্ষণবিদদের অবদানের প্রশংসা করেন এবং মানুষ-বন্যপ্রাণ সংঘাত কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় সম্প্রদায়কে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব বলেন, বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির এই ইতিবাচক তথ্য ভারতের বনভূমির সুস্বাস্থ্য এবং সংরক্ষণমূলক উদ্যোগের সাফল্যের প্রতিফলন। একই সঙ্গে বননির্ভর মানুষের জীবিকা সুরক্ষিত রেখে বাঘ ও তাদের বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি জানান।
ভারতের এই সাফল্য শুধু দেশের জন্য নয়, বিশ্বব্যাপী বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।





