৭০০ ফ্লাইট বাতিল, ভাড়া ‘অসহনীয়’! দিল্লি থেকে একমুখী টিকিট ছাড়াল ৬৫ হাজার

ইন্ডিগোর নজিরবিহীন ফ্লাইট-বাতিলে যাত্রীদের দুর্ভোগ যখন চরমে, ঠিক তখনই আরও বড় ধাক্কা—রাজধানীসহ একাধিক রুটে একমুখী বিমানভাড়া হঠাৎই পৌঁছে গেল অবিশ্বাস্য উচ্চতায়। বাতিলের হিড়িকে বিকল্প ফ্লাইটের অভাব, আর সেই ...

By Moumita Biswas

Published:

Updated:

Follow Us
Indigo Flight Cancellation

ইন্ডিগোর নজিরবিহীন ফ্লাইট-বাতিলে যাত্রীদের দুর্ভোগ যখন চরমে, ঠিক তখনই আরও বড় ধাক্কা—রাজধানীসহ একাধিক রুটে একমুখী বিমানভাড়া হঠাৎই পৌঁছে গেল অবিশ্বাস্য উচ্চতায়। বাতিলের হিড়িকে বিকল্প ফ্লাইটের অভাব, আর সেই সুযোগেই বাজারে যেন দামবৃদ্ধির বন্যা।

আকাশ ছোঁয়া ভাড়া

শুক্রবার দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে ইন্ডিগোর ৭০০-রও বেশি উড়ান বাতিল হওয়ার পর ট্রাভেল অ্যাগ্রিগেটর প্ল্যাটফর্মগুলিতে দেখা গেল চোখ কপালে তোলার মতো ভাড়া। দিল্লি–চেন্নাই একমুখী টিকিট ছুঁল ৬৫,৯৮৫টাকা। দিল্লি–মুম্বই—দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত এয়ার রুটগুলির একটি—সেখানে ভাড়া পৌঁছল ৩৮,৬৭৬ টাকা। এমনকি দিল্লি–কলকাতা পর্যন্ত ভাড়া গড়িয়ে গেল ৩৮,৬৯৯ টাকার ওপরে, হাতে গোনা কয়েকটি সিট বাকি রেখে।

   

ইন্ডিগো মধ্যরাত পর্যন্ত দিল্লি ও চেন্নাই থেকে সমস্ত অভ্যন্তরীণ উড়ান স্থগিত রাখায়, যাত্রীচাহিদা আচমকাই অন্য এয়ারলাইন্সগুলির দিকে ঢলে পড়ে। সীমিত আসন, অতিরিক্ত চাপে তৈরি বাড়তি ভাড়া—শেষমুহূর্তে টিকিট কাটতে গিয়ে যাত্রীদের মনে হয়েছে যেন তারা “দ্বিগুণ শাস্তি” পাচ্ছেন। একদিকে উড়ান বাতিলের দুর্ভোগ, অন্যদিকে বিকল্প ভাড়ায় আকাশছোঁয়া অঙ্ক।

ভাড়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ

ডিসেম্বর ৫ ও ৬—উভয় তারিখেই বহু প্ল্যাটফর্মে দেখা যায় চেন্নাইমুখী বহু-স্টপ ফ্লাইটের ভাড়া ৭১,০০০-এরও বেশি। ট্রেনের টিকিট দীর্ঘদিন আগে থেকেই হাউসফুল। ফলে রাজধানী থেকে জরুরি যাত্রা যেন দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ যাত্রীদের কাছে।

এই পরিস্থিতিতে বেসামরিক উড়ানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই DGCA-কে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন ভাড়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে, যাতে এয়ারলাইন্সগুলি সংকটকে পুঁজি করে বাড়াবাড়ি না করে। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে—নীতি আর প্রয়োগের মধ্যে যেন গভীর ফাঁক রয়ে গেছে।

ভাড়া বৃদ্ধির ব্যখ্যা মেলেনি

এয়ারলাইন্সগুলি এখনও পর্যন্ত অস্বাভাবিক ভাড়াবৃদ্ধি নিয়ে কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি। এদিকে বিমানবন্দর থেকে সোশ্যাল মিডিয়া—সব জায়গায় একই দৃশ্য: উদ্বিগ্ন, ক্লান্ত, ক্ষুব্ধ যাত্রীরা মরিয়া হয়ে খুঁজছেন কোনও খালি সিট—যে কোনও দামে, যে কোনও রুটে। তাঁদের একটাই লক্ষ্য—যেভাবেই হোক বাড়ি পৌঁছোনো।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google