
ভারতের নৌ শক্তি (Indian Navy) একটি বড় ধরনের গতি পেতে চলেছে। জার্মানি ও ভারতের মধ্যে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি সাবমেরিন চুক্তি শীঘ্রই চূড়ান্ত হতে পারে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং সম্প্রতি জার্মানি সফর করেছেন। এদিকে, জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস জানিয়েছেন যে তিনি এই চুক্তিটি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী এবং এটি শীঘ্রই স্বাক্ষরিত হতে পারে।
সম্পূর্ণ প্রকল্পটি কী?
এই চুক্তিটি হবে জার্মান কোম্পানি থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস (টিকেএমএস) এবং ভারতের মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (এমডিএল)-এর মধ্যে। এই প্রকল্পের অধীনে, ভারত ছয়টি আধুনিক ডিজেল-ইলেকট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিন পাবে, যেগুলো ভারতেই নির্মিত হবে। সম্পূর্ণ প্রকল্পটি প্রজেক্ট ৭৫(আই)-এর অধীনে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
বর্তমান অবস্থা কী?
সূত্রমতে, প্রযুক্তিগত-বাণিজ্যিক আলোচনা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আন্তঃসরকার চুক্তি (আইজিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এখন নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিএস) অনুমোদন বাকি আছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্ত হতে পারে।
এই চুক্তিটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতীয় নৌবাহিনীর বর্তমান সাবমেরিনগুলো বেশ পুরনো। এগুলোর মধ্যে অনেকগুলোর বয়স ২৫ বছরের বেশি এবং সেগুলোর আধুনিকায়ন প্রয়োজন। এই চুক্তিটি নৌবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি করবে, দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে কাজ করার সক্ষমতা দেবে এবং শত্রুকে পর্যবেক্ষণ ও আক্রমণ করার ক্ষমতা বাড়াবে।
নতুন সাবমেরিনের বৈশিষ্ট্য
এই সাবমেরিনগুলো জার্মান টাইপ-২১৪ নকশার উপর ভিত্তি করে তৈরি হবে এবং ভারতের প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষভাবে নির্মিত হবে।
১- এআইপি প্রযুক্তি: এগুলিতে এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রোপালশন (এআইপি) প্রযুক্তি থাকবে, যার ফলে এগুলি ঘন ঘন জলের উপরে আসার প্রয়োজন ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে জলের নিচে থাকতে পারবে।
২- গোপনীয়তার সক্ষমতা: এদের নকশা ন্যূনতম শব্দ নিশ্চিত করবে এবং শত্রুর রাডার ও সোনারকে ফাঁকি দেবে।
৩- উন্নত সেন্সর: আধুনিক সোনার এবং টার্গেটিং সিস্টেমের সাহায্যে, এরা দূর থেকে শত্রু জাহাজ এবং সাবমেরিনকে শনাক্ত করতে সক্ষম হবে।
৪- শক্তিশালী অস্ত্র: এগুলোর মধ্যে থাকবে টর্পেডো এবং জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, যা দিয়ে সহজেই শত্রু জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু বানানো যাবে।
৫- ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র প্রসার: এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো সাবমেরিনগুলো ভারতেই তৈরি করা হবে। প্রাথমিকভাবে, প্রায় ৪৫% যন্ত্রাংশ দেশীয় হবে। চূড়ান্ত সাবমেরিনটি তৈরির সময় এই হার ৬০%-এ পৌঁছাতে পারে। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতা এবং আত্মনির্ভরশীলতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলবে।
চিন ও পাকিস্তানের উপর প্রভাব
চিনের কাছে ইতোমধ্যেই আধুনিক সাবমেরিন রয়েছে, কিন্তু এই চুক্তিটি ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। এটি পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য একটি বড় ভারসাম্য পরিবর্তনকারী পদক্ষেপ হতে পারে। নতুন সাবমেরিনগুলো ভারত মহাসাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
ভারত ও জার্মানির মধ্যে এই সম্ভাব্য চুক্তিটি শুধু সাবমেরিন ক্রয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ভারতের নৌ শক্তি, আত্মনির্ভরশীলতা এবং কৌশলগত সুবিধা জোরদার করার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ।

