নৌবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি, নৌবহরে যুক্ত হতে চলেছে যুদ্ধজাহাজ ‘মহেন্দ্রগিরি’

Stealth Frigate Mahendragiri: ভারত ক্রমাগত তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করে চলেছে। এই প্রেক্ষাপটে, ভারতীয় নৌবাহিনী ২০২৬ সালের ১১ জুলাই বিশাখাপত্তনমে তাদের ষষ্ঠ ‘প্রজেক্ট-১৭এ’ (Project-17A) দেশীয়…

Mahendragiri

Stealth Frigate Mahendragiri: ভারত ক্রমাগত তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করে চলেছে। এই প্রেক্ষাপটে, ভারতীয় নৌবাহিনী ২০২৬ সালের ১১ জুলাই বিশাখাপত্তনমে তাদের ষষ্ঠ ‘প্রজেক্ট-১৭এ’ (Project-17A) দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত স্টিলথ ফ্রিগেট ‘মহেন্দ্রগিরি’ (F38)-কে নৌবহরে অন্তর্ভুক্ত বা কমিশন করবে। এই যুদ্ধজাহাজটি ভারতীয় নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান শক্তি এবং দেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতার আরেকটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন; এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দেশীয় উপকরণ ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্ব ঘাটের বিখ্যাত মহেন্দ্রগিরি পর্বতশ্রেণীর নামানুসারে ‘মহেন্দ্রগিরি’-র নামকরণ করা হয়েছে। এই প্রথম ভারতীয় নৌবাহিনীর কোনো যুদ্ধজাহাজের নাম ‘মহেন্দ্রগিরি’ রাখা হলো।

‘মহেন্দ্রগিরি’-র প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
এই ফ্রিগেটটি ভারতীয় নৌবাহিনীর ‘ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরো’ (WDB)-র নকশায় মুম্বইয়ের ‘মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড’ (MDL) কর্তৃক নির্মিত হয়েছে। মহেন্দ্রগিরি-তে রয়েছে উন্নত ‘স্টেলথ’ প্রযুক্তি, কম রাডার দৃশ্যমানতা (লো রাডার সিগনেচার), উন্নত টিকে থাকার সক্ষমতা এবং অত্যাধুনিক অটোমেশন ব্যবস্থা। এটি ‘কম্বাইন্ড ডিজেল অর গ্যাস’ (CODOG) প্রপালশন ব্যবস্থায় সজ্জিত, যা এটিকে দীর্ঘ দূরত্ব জুড়ে দ্রুতগতির সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনায় সক্ষম করে তোলে।

দেশীয় উপাদানের ব্যবহার
এর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এই যুদ্ধজাহাজে ব্যবহৃত সামগ্রী ও প্রযুক্তির ৭৫ শতাংশেরও বেশি দেশীয়। ভারতের বেশ কয়েকটি কোম্পানির অংশগ্রহণে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আওতায় এটি নির্মাণ করা হয়েছে।

অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সেন্সরে সজ্জিত
মহেন্দ্রগিরি অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সেন্সরে সজ্জিত। এতে রয়েছে সারফেস-টু-সারফেস (ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য) ও সারফেস-টু-এয়ার (ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য) ক্ষেপণাস্ত্র, আধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম, সাবমেরিন-বিধ্বংসী অস্ত্র এবং একটি উন্নত কমব্যাট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।

আকাশপথ, সমুদ্রপৃষ্ঠ ও সমুদ্র-অভ্যন্তরস্থ হুমকি মোকাবিলা
এই ফ্রিগেটটি শত্রুপক্ষের আকাশপথ, সমুদ্রপৃষ্ঠ এবং সমুদ্র-অভ্যন্তরস্থ হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম। পাশাপাশি, এটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলা (HADR), অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারির মতো কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ভারতীয় নৌবাহিনীর মতে, নৌবহরে ‘প্রজেক্ট-১৭এ’ (Project-17A) শ্রেণির ফ্রিগেটগুলোর অন্তর্ভুক্তি বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতাকে আরও জোরদার করবে। পাশাপাশি, নিজস্ব প্রযুক্তিতে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে ভারতের বৈশ্বিক অবস্থানকেও এটি সুদৃঢ় করবে। নৌবাহিনী জানিয়েছে যে, ভারত মহাসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষায় ‘মহেন্দ্রগিরি’ (Mahendragiri) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং একই সাথে ওই এলাকায় শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।