অবসরের পরেও মিলবে ইপিএফের সুদ: ৬১ বছর বয়স পর্যন্ত সুযোগ, কখন টাকা তুলবেন?

কলকাতা: অবসরের পরও এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড (EPF) থেকে সুদ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সাধারণের মধ্যে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা রয়েছে যে, কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার সঙ্গে…

EPF interest after retirement

কলকাতা: অবসরের পরও এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড (EPF) থেকে সুদ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সাধারণের মধ্যে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা রয়েছে যে, কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পিএফ অ্যাকাউন্টের সুদ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক এক বার্তায় এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO) স্পষ্ট জানিয়েছে, অবসর গ্রহণের পরেও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পিএফ অ্যাকাউন্টে সুদ জমা হতে থাকবে।

কী জানাচ্ছে ইপিএফও?

পিএফও-র সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন কর্মচারী ৫৮ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করলে তাঁর পিএফ অ্যাকাউন্টে আরও তিন বছর অর্থাৎ ৬১ বছর বয়স পর্যন্ত বার্ষিক সুদ জমা হবে। তবে শর্ত একটাই—ওই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নতুন কোনো ইপিএফ-ভুক্ত চাকরিতে যোগ দেওয়া চলবে না। ৬১ বছর পার হয়ে গেলে অ্যাকাউন্টটি ‘ইনঅপারেটিভ’ বা নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় এবং এরপর আর কোনো সুদ জমা হয় না।

তহবিল কি নিরাপদ?

অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, ৬১ বছরের পর অ্যাকাউন্টের টাকা কি খোয়া যায়? ইপিএফও আশ্বস্ত করেছে যে, ৬১ বছরের পর অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলেও গচ্ছিত মূলধন সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে। সদস্য বা তাঁর মনোনীত ব্যক্তি (নমিনি) নিয়ম মেনে যেকোনো সময় ওই টাকা তোলার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে সুদ পাওয়া অব্যাহত রাখতে এবং আর্থিক ক্ষতি এড়াতে ৬১ বছর বয়স হওয়ার আগেই টাকা তুলে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইপিএফও-র সাম্প্রতিক পরিষেবা ও সংস্কার

সদস্যদের সুবিধার্থে ইপিএফও সম্প্রতি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। অটো-সেটেলমেন্ট অফ ক্লেইম (Auto-settlement of claims) প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে, যার ফলে দাবি নিষ্পত্তির গতি বেড়েছে। আধার-ভিত্তিক ডিজিটাল ভেরিফিকেশন এবং ওয়েবসাইটের মানোন্নয়নের মাধ্যমে কাগজপত্রের জটিলতা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে গ্রাহকদের একাংশের দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই দাবি নিষ্পত্তিতে দেরি হচ্ছে, যা নিয়ে সংস্থাটিকে আরও মনোযোগী হতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে পরামর্শ হলো, ৫৮ বছর বয়সে অবসর নেওয়ার পরই তাড়াহুড়ো করে টাকা তোলার প্রয়োজন নেই যদি না আপনার তাৎক্ষণিক অর্থের প্রয়োজন হয়। বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে আর্থিক উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলে তবেই টাকা তোলার পরিকল্পনা করা উচিত। তবে ৬১ বছর বয়সের আগে চূড়ান্ত পরিকল্পনা সেরে ফেলাই শ্রেয়। কোনো সংশয় থাকলে ইপিএফও-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের ‘Contact Us’ ট্যাবে গিয়ে অভিযোগ জানানো যাবে।