যোগী রাজ্যের মেক ইন ইন্ডিয়ায় ড্রোন যুদ্ধের নয়া দিগন্তে ভারতীয় সেনাবহিনী

indian-army-sabhal-drone-endureair-noida-make-in-india-defense

নয়ডা: ভারতীয় সেনাবাহিনীর উচ্চ উচ্চতার দুর্গম এলাকায় এখন এক নতুন ‘আকাশ সৈনিক’ কাজ করছে। (Indian Army)তার নাম সাবাল। উত্তরপ্রদেশের নয়ডা-ভিত্তিক স্টার্টআপ এন্ডিউরএয়ার সিস্টেমস তৈরি করেছে এই অত্যাধুনিক লজিস্টিক্স ড্রোন। আইকনিক বোয়িং চিনুক হেলিকপ্টারের ছোট্ট সংস্করণের মতো দেখতে এই ড্রোনটি ইতিমধ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডে (আরুণাচল প্রদেশ ও সিকিম সীমান্ত) সক্রিয়ভাবে সেবা দিচ্ছে।

সাবাল-২০ নামে পরিচিত এই ড্রোনটি পুরোপুরি বৈদ্যুতিক শক্তিচালিত। এর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল উচ্চ উচ্চতায় বাতাসের ঘনত্ব কমে যাওয়া যাকে বলা হয় এয়ার রেয়ারফ্যাকশন। সাধারণ ড্রোনগুলো ১০-১২ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় পেলোড বহন করতে গেলে হিমশিম খায়। কিন্তু সাবাল তা সামলাতে পারে ১৫,০০০ ফুট (প্রায় ৪,৫০০-৫,০০০ মিটার) পর্যন্ত। এটি ২০ কেজি পেলোড নিয়ে ১০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম।

   

আরও দেখুনঃ ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে এবার ইতি? মোজতবা খামেনেইর সঙ্গে সরাসরি ‘ডিল’ করছেন ট্রাম্প

সর্বোচ্চ গতি ৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা এবং একবার চার্জে প্রায় ৪০ মিনিট উড়তে পারে।এর ডিজাইন অনুপ্রাণিত হয়েছে আমেরিকার বিখ্যাত ট্যান্ডেম রোটর চিনুক হেলিকপ্টার থেকে। দুটি রোটর একের পিছনে আরেকটি যা স্থিতিশীলতা বাড়ায়, টার্বুলেন্স কমায় এবং উচ্চ উচ্চতায় ভালো লিফট তৈরি করে। ভেরিয়েবল পিচ টেকনোলজি ব্যবহার করায় এটি ভারী বোঝা নিয়ে সহজে উঠতে-নামতে পারে। ওজন নিজের প্রায় ৪০-৬০ কেজির মধ্যে, আর পেলোড ক্যাপাসিটি তার নিজের ওজনের প্রায় অর্ধেক যা ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো যাবে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য এই ড্রোনটি এক বড় স্বস্তি। লাদাখ, সিয়াচেন বা পূর্বাঞ্চলের উঁচু পাহাড়ি এলাকায় সরবরাহ পৌঁছানো সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। ঐতিহ্যগতভাবে ঘোড়া-খচ্চর অথবা ম্যানড হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে হয়। খারাপ আবহাওয়া, ঘন কুয়াশা বা রাতের অন্ধকারে সেই কাজ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সাবাল এসব সমস্যার সমাধান করছে। এটি দিন-রাত যেকোনো সময় উড়তে পারে এবং চরম আবহাওয়াতেও কাজ করে।

ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর পাইলটদের উচ্চ উচ্চতায় (প্রায় ৪,০০০ মিটার) প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং বাস্তব অপারেশনে এটি সফলভাবে পরীক্ষিত হয়েছে।এন্ডিউরএয়ার ২০১৮ সালে আইআইটি কানপুরের ইনকিউবেটর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। দেশীয় প্রযুক্তি ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের সফল উদাহরণ এই স্টার্টআপ। সাবাল শুধু সেনাবাহিনীর লজিস্টিক্সই নয়, ভবিষ্যতে দুর্গম এলাকায় দুর্যোগ ত্রাণ, ওষুধ সরবরাহ এমনকি অন্যান্য সিভিলিয়ান কাজেও ব্যবহার করা যাবে। কোম্পানি জানিয়েছে, এর ডিজাইন এমন যাতে ভারী বোঝা বহন করার সময়ও স্থিতিশীলতা অটুট থাকে।