নয়াদিল্লি: অবশেষে রূপান্তরকামী (অধিকার সুরক্ষা) সংশোধনী বিল, ২০২৬-এ সম্মতি দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। কেন্দ্রীয় সরকারের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির পরই দেশে নতুন আইন কার্যকর হবে। তবে, এই বিলে রূপান্তরকামীদের সংজ্ঞায় বড়সড় রদবদল আনা হয়েছে৷ তাঁদের আইনি স্বীকৃতির নিয়মে কড়াকড়ি ঘিরেও দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এই বিল রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের মৌলিক অধিকার ও মর্যাদা খর্ব করবে।
বিলে কী কী বদল আনা হয়েছে?
২০১৯ সালের আইনের তুলনায় নতুন বিলে ‘রূপান্তরকামী’-র সংজ্ঞাকে আরও নির্দিষ্ট এবং সঙ্কুচিত করা হয়েছে। এই সংশোধনী থেকে ‘ভিন্ন যৌন প্রবৃত্তি’ (Different sexual orientations) এবং ‘নিজস্ব উপলব্ধির ভিত্তিতে নির্ধারিত লিঙ্গপরিচয়’ (Self-perceived sexual identities)-কে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও ২০১৪ সালের সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক নালসা রায়ে রূপান্তরকামীদের ‘সেলফ-আইডেন্টিফিকেশন’ বা নিজস্ব ঘোষণাকে মান্যতা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নতুন বিলে সেই অধিকার বাতিল করে বলা হয়েছে, রূপান্তরকামী হিসেবে আইনি স্বীকৃতি পেতে হলে সরকার নিযুক্ত মেডিক্যাল বোর্ড বা নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের শংসাপত্র বাধ্যতামূলক।
রূপান্তরকামীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন-সহ অন্যান্য অপরাধের জন্য ধাপে ধাপে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, কাউকে রূপান্তরকামী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে ‘প্ররোচিত’ করাকেও এই বিলে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
সরকারের যুক্তি
নতুন বিলের পক্ষে সওয়াল করে কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রী বীরেন্দ্র কুমার সংসদে জানান, জৈবিক কারণে যাঁরা চরম সামাজিক বৈষম্যের শিকার হন, এই আইনের উদ্দেশ্য হল সেই নির্দিষ্ট শ্রেণিটিকে সুরক্ষা দেওয়া এবং সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনা। যাঁদের জেন্ডার ফ্লুইডিটি বা নিজস্ব লিঙ্গবোধ রয়েছে, তাঁদের সকলকে এই আইনের আওতায় আনা সম্ভব নয়।
বিরোধীদের তোপ ও বিতর্ক
সরকারের যুক্তির পাল্টা কড়া সমালোচনা শুরু করেছে বিরোধী দল, আইনজ্ঞ এবং মানবাধিকার কর্মীরা। তাঁদের দাবি, মেডিক্যাল বোর্ডের অনুমোদনের নিয়ম আসলে রূপান্তরকামীদের শারীরিক ও মানসিক হেনস্থার সামিল৷ এটি তাঁদের গোপনীয়তা ও মর্যাদার চরম পরিপন্থী। প্র্যাক্টিসিং চিকিৎসকদের মতে, হাসপাতালে এমার্জেন্সি ডিউটি ছেড়ে রূপান্তরকামীদের শংসাপত্র দেওয়ার জন্য মেডিক্যাল বোর্ডের ডাক্তারদের নিয়মিত একজোট হওয়া কার্যত অসম্ভব, ফলে শংসাপত্র পেতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হবে প্রান্তিক মানুষদের। এছাড়া, প্ররোচনা দেওয়ার ধারাটি অপব্যবহার করে চিকিৎসকদের বা রূপান্তরকামীদের পরিবারকেও হেনস্থা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা।



















