ইরানি শেহজাদের আদলে ভারতের নতুন হাতিয়ার শেষনাগ ড্রোন

মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা ইরান–ইসরায়েল সংঘাত আধুনিক যুদ্ধের চরিত্রকে নতুনভাবে সামনে এনে দিয়েছে (Sheshnaag)। বিশেষ করে কম খরচের ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার বিশ্বজুড়ে সামরিক পরিকল্পনাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
india-sheshnaag-long-range-strike-drone-project-kal

মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা ইরান–ইসরায়েল সংঘাত আধুনিক যুদ্ধের চরিত্রকে নতুনভাবে সামনে এনে দিয়েছে (Sheshnaag)। বিশেষ করে কম খরচের ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার বিশ্বজুড়ে সামরিক পরিকল্পনাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতও নিজেদের দীর্ঘপাল্লার স্বল্পমূল্যের আক্রমণাত্মক ড্রোন প্রকল্পগুলিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় সেনার পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে দুটি প্রকল্প শেষনাগ ড্রোন এবং প্রজেক্ট KAL।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ইরানের শাহেদ সিরিজের ড্রোন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই ড্রোনগুলো তুলনামূলকভাবে কম খরচে তৈরি হলেও বড় আকারে একসঙ্গে ব্যবহার করলে প্রতিপক্ষের এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা ভেঙে দিতে সক্ষম। বহু ড্রোন একসঙ্গে পাঠিয়ে শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিভ্রান্ত করা এবং গভীর অঞ্চলে আঘাত হানার কৌশল বর্তমানে আধুনিক যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতি ভারতের সামরিক পরিকল্পনাতেও নতুন করে গুরুত্ব তৈরি করেছে।

   

আরও দেখুনঃ পরিবর্তন রথযাত্রার আগে ছিঁড়ল বিজেপির পতাকা

সাম্প্রতিক পরীক্ষায় ভারতের শেষনাগ -১৫০ ড্রোন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে এই ড্রোনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়েছে যেখানে মহাসড়ক থেকে ড্রোন উৎক্ষেপণের মতো অপ্রচলিত পদ্ধতিও ব্যবহার করা হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিমানঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিকল্প লঞ্চিং ব্যবস্থা হিসেবে হাইওয়ে ব্যবহার করার সম্ভাবনা যাচাই করতেই এই ধরনের পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

এই শেষনাগ -১৫০ ড্রোনটি তৈরি করছে বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক প্রতিরক্ষা স্টার্টআপ নিউ স্পেস রিসার্চ টেকনোলজিস। সংস্থাটি গত এক বছর ধরে এই প্রকল্পের উন্নয়ন ও পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতের প্রথম দিকের স্বদেশি লং-রেঞ্জ স্বার্মিং স্ট্রাইক ড্রোনগুলোর একটি।

শেষনাগ -১৫০-এর সবচেয়ে বড় শক্তি তার দীর্ঘপাল্লার ক্ষমতা। এই ড্রোনটির অপারেশনাল রেঞ্জ এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে এটি পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় আকাশে অবস্থান করতে পারে। এর ফলে এটি লক্ষ্যবস্তুর উপর দীর্ঘ সময় নজরদারি চালাতে সক্ষম। শুধু নজরদারি নয়, প্রয়োজনে লক্ষ্য চিহ্নিত করে আঘাত হানতেও পারে এই ড্রোন।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই ড্রোনটিকে বেশ উন্নত বলে মনে করা হচ্ছে। এতে এমন সফটওয়্যার ও সেন্সর ব্যবস্থার ব্যবহার করা হয়েছে যা ড্রোনকে অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্য চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। অর্থাৎ মানব হস্তক্ষেপ খুব কম থাকলেও এটি শত্রু লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্ত, ট্র্যাক এবং আক্রমণ করতে সক্ষম। এই ড্রোনে ২৫ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত ওয়ারহেড বহনের ক্ষমতা রয়েছে, যা পরিকাঠামো, সামরিক যান বা শত্রু ঘাঁটির উপর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করতে পারে।

শুধু শেষনাগ নয়, একই সঙ্গে আরেকটি স্বল্পমূল্যের দীর্ঘপাল্লার ড্রোন প্রকল্প Project KAL-কেও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিরক্ষা মহলের মতে, এই ধরনের ড্রোন ভবিষ্যতের যুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কারণ বড় আকারের যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার তুলনায় এগুলোর খরচ কম এবং একসঙ্গে বহু সংখ্যায় ব্যবহার করা সম্ভব।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরিকল্পনায় এখন পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে যে ড্রোন প্রযুক্তি আর কোনও সীমিত ক্ষেত্র নয়। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে নজরদারি, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং আক্রমণ এই তিন ক্ষেত্রেই ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সেই কারণে ভারত দ্রুত নিজেদের স্বদেশি প্রযুক্তি তৈরি করে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে চাইছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ অনেকটাই নির্ভর করবে স্বয়ংক্রিয় ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্বার্মিং প্রযুক্তির উপর। তাই শেষনাগ -১৫০ এবং প্রজেক্ট KAL-এর মতো প্রকল্পগুলো ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.