
নয়াদিল্লি: ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতে ফের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল ভারত সরকার। (medical aid)ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দূতাবাস নয়াদিল্লিতে টুইট করে জানিয়েছে, “ভারতের জনগণের দান করা চিকিৎসা সামগ্রীর দ্বিতীয় চালান ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কাছে পাঠানো হয়েছে।” এই খবরটি দুই দেশের মধ্যে মানবিক সম্পর্কের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।ইরান বর্তমানে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও যুদ্ধের ধাক্কায় চিকিৎসা সংকটের মুখোমুখি।
হাসপাতালগুলোতে ওষুধ, মেডিকেল যন্ত্রপাতি ও জরুরি সরঞ্জামের অভাব দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসেছেন। প্রথম চালানটি মার্চ মাসে পৌঁছে গিয়েছিল। ইরানের দূতাবাস তখন ভারতের “সম্মানিত ও দয়ালু জনগণ”-কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছিল। এবার দ্বিতীয় চালানও পাঠানো হয়েছে। এতে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, ব্যান্ডেজ, অ্যান্টিবায়োটিক, আঘাতের চিকিৎসার সামগ্রী এবং অন্যান্য জরুরি মেডিকেল সাপ্লাই রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ নাগরিক, এনজিও, ব্যবসায়ী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো এই সাহায্য সংগ্রহে অংশ নিয়েছেন। অনেকে নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়েছেন, কেউ ওষুধ কিনে দিয়েছেন, আবার কেউ সরাসরি সামগ্রী দান করেছেন। ইরান দূতাবাস ভারতে অবস্থিত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনুদান সংগ্রহ করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা সামগ্রী কিনে চালান প্রস্তুত করেছে। এতে আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কিং নিষেধাজ্ঞার জটিলতাও এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এই উদ্যোগ শুধু সরকারি নয়, পুরোপুরি জনগণের। ইরানের দূতাবাস বারবার জোর দিয়ে বলেছে এটা “ভারতের জনগণের” দান। প্রথম চালান পৌঁছানোর পর ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সেই সামগ্রী দ্রুত হাসপাতাল ও আহতদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। দ্বিতীয় চালানও একইভাবে ইরানের রেড ক্রিসেন্টের হাতে তুলে দেওয়া হবে। রেড ক্রিসেন্ট ইরানের যুদ্ধকালীন ও জরুরি পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় মানবিক সংস্থা হিসেবে কাজ করছে।
তারা দেশজুড়ে আহতদের চিকিৎসা, ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।দুই দেশের মধ্যে এই মানবিক সহযোগিতা নতুন নয়। ভারত ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। সভ্যতা, বাণিজ্য ও সংস্কৃতির বন্ধনে দুই দেশ বহুকাল ধরে যুক্ত। কিন্তু এই মুহূর্তে যখন ইরান চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন ভারতের সাধারণ মানুষের এই সাড়া অনেকের মনে আশা জাগিয়েছে। অনেক ইরানি নাগরিক সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একজন ইরানি চিকিৎসক লিখেছেন, “ভারতের ভাই-বোনেরা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই সাহায্য অনেক প্রাণ বাঁচাবে।”

