ভারত বন্ধু হরমুজে সেফ প্যাসেজ নিশ্চিত করে বিবৃতি রাষ্ট্রদূতের

নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা সংঘাতের জেরে পারস্য উপসাগর জুড়ে উত্তেজনা যখন ক্রমশ বাড়ছে, (Strait of Hormuz)তখন ভারতের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিল ইরান। ভারতের কাছে…

india-safe-passage-strait-of-hormuz-iran-ambassador-mohammad-fathali

নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা সংঘাতের জেরে পারস্য উপসাগর জুড়ে উত্তেজনা যখন ক্রমশ বাড়ছে, (Strait of Hormuz)তখন ভারতের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিল ইরান। ভারতের কাছে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপদ পথ নিশ্চিত করা হতে পারে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ফাথালি বলেন, ভারত ইরানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং সেই সম্পর্কের ভিত্তিতেই ভারতের জন্য ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেখা যেতে পারে। তিনি বলেন, “হ্যাঁ, কারণ ভারত আমাদের বন্ধু। আপনারা দুই বা তিন ঘণ্টার মধ্যেই এর ফল দেখতে পাবেন।” মধ্যপ্রাচ্যের চলতে থাকা যুদ্ধের প্রভাব ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। ভারতে তেলের দাম না বাড়লেও রান্নার গ্যাসের অকালে দেশ জুড়ে হাহাকার। লাইনে দাঁড়িয়েও সুরাহা হচ্ছে না।

আরও দেখুনঃ দশম-আইটিআই পাস যুবকদের জন্য রেলওয়েতে চাকরির সুযোগ, ১৯২টি পদে নিয়োগ

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডর। পারস্য উপসাগরকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করে এই জলপথ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস রফতানি এই পথ দিয়েই বিভিন্ন দেশে পৌঁছে যায়। ফলে এখানে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও তার প্রভাব সরাসরি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে পড়ে।

ভারতের ক্ষেত্রেও এই পথের গুরুত্ব অপরিসীম। ভারতের মোট আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে এবং তার অধিকাংশই হরমুজ প্রণালী হয়ে ভারতীয় বন্দরগুলোতে পৌঁছায়। তাই এই জলপথে অস্থিরতা তৈরি হলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রদূত ফাথালির বক্তব্য কূটনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি বলেন, ইরান এবং ভারতের মধ্যে বহুদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক স্বার্থও অনেক ক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে মিলে যায়।

ফাথালি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি ইরান এবং ভারতের মধ্যে বহু সাধারণ স্বার্থ রয়েছে। আমরা বন্ধু দেশ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা দীর্ঘদিনের।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে কঠিন সময়েও ভারত ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, “ভারতে ইরানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমি বলতে পারি, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ভারত সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সাহায্য করেছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য শুধু কূটনৈতিক সৌজন্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে ইরান সম্ভবত ভারতকে একটি বিশেষ বার্তা দিতে চাইছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যেও দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখতে আগ্রহী তেহরান। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে সরকার ও শিপিং কোম্পানিগুলি সতর্ক নজর রাখছে। কারণ এখানে যেকোনও সামরিক উত্তেজনা বা অবরোধ বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে বড় ধাক্কা দিতে পারে।