PoK-র দায় ভারতের? পাক দাবি নস্যাৎ করে কড়া জবাব ভারতের

নয়াদিল্লি: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) চলা বিক্ষোভের জন্য ভারতকে দায়ী করেছিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। শুক্রবার নয়াদিল্লির তরফে সেই দাবিকে সম্পূর্ণ খারিজ করে দেওয়া হল। ভারতের…

India Rejects Pakistan Allegations on PoK Protests

নয়াদিল্লি: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) চলা বিক্ষোভের জন্য ভারতকে দায়ী করেছিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। শুক্রবার নয়াদিল্লির তরফে সেই দাবিকে সম্পূর্ণ খারিজ করে দেওয়া হল। ভারতের স্পষ্ট জবাব, নিজেদের চরম ব্যর্থতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনাগুলি থেকে বিশ্বের নজর ঘোরাতেই মরিয়া হয়ে এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে ইসলামাবাদ। (India Rejects Pakistan Allegations on PoK Protests)

ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া

পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, এই সমস্ত দাবি সম্পূর্ণ “মনগড়া” এবং “ভিত্তিহীন”। তাঁর কথায়, “পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে এই অশান্তির মূল কারণ হল পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক শোষণ, মৌলিক অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত রাখা এবং অবৈধভাবে দখল করা ওই অঞ্চলে তাদের প্রশাসনিক নিপীড়ন।”

   

বিক্ষোভ দমনে পাকিস্তানের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, “বিক্ষোভকারীদের ওপর চরম পুলিশি বর্বরতা চালিয়েছে পাকিস্তান। অত্যাবশ্যকীয় ত্রাণ ও সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ স্তব্ধ এবং নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজনের প্রাণও গিয়েছে। পাকিস্তানের এই অপকর্ম এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের উচিত তাদের জবাবদিহি করা।”

পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি

আগামী ২৭ জুলাই পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে আইনসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তার আগেই সেখানে দীর্ঘকালীন বন্‌ধ এবং প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা বিধিনিষেধের জেরে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC) ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদকে নতুন করে চরমপত্র দিয়েছে। তাদের দাবি, অবিলম্বে সন্ত্রাসবিরোধী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং আটক হওয়া শত শত মানবাধিকার কর্মীকে মুক্তি দিতে হবে।

কী নিয়ে এই অশান্তি?

চলতি মাসের শুরুতে মুজফফরাবাদ অভিমুখে একটি পূর্বপরিকল্পিত ‘লং মার্চ’ আটকানোর চেষ্টা করে নিরাপত্তা বাহিনী। আর তখনই রাওয়ালকোট এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এই ঘটনায় ৪ জন পুলিশ আধিকারিক-সহ অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপরই প্রশাসন JAAC-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, তাদের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করে এবং মিরপুর ও কোটলির মতো প্রধান শহরগুলিতে ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।

অশান্তির এই সাম্প্রতিক স্ফুলিঙ্গের নেপথ্যে রয়েছে ২৭ জুলাইয়ের নির্বাচন। মূল ভূখণ্ডে বসবাসকারী কাশ্মীরি উদ্বাস্তুদের জন্য আইনসভায় ১২টি সংরক্ষিত আসন বাতিলের দাবি জানিয়েছে JAAC এবং স্থানীয় কয়েকটি গোষ্ঠী। তাদের যুক্তি, এই কোটা ব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় প্রশাসনে অন্যায্য প্রভাব বিস্তার করে ইসলামাবাদ। যদিও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি রায় দিয়েছে যে, এই আসনগুলি সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত।