চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই ভারতীয় বিমানবাহিনী পাচ্ছে আত্মনির্ভর ভারতের মাইলস্টোন সি-২৯৫

নয়াদিল্লি: ভারতীয় বিমানবাহিনীর (C-295) জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত আসন্ন। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে (২০২৬) ভারতীয় আকাশে উড়বে প্রথম দেশীয় তৈরি সি-২৯৫ ট্যাকটিক্যাল ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফট। এটি শুধু…

india-made-c295-iaf

নয়াদিল্লি: ভারতীয় বিমানবাহিনীর (C-295) জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত আসন্ন। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে (২০২৬) ভারতীয় আকাশে উড়বে প্রথম দেশীয় তৈরি সি-২৯৫ ট্যাকটিক্যাল ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফট। এটি শুধু একটি বিমান নয়, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর এক উজ্জ্বল সাফল্যের প্রতীক।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এয়ারবাসের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৫৬টি সি-২৯৫ বিমানের বৃহৎ চুক্তির অংশ হিসেবে এই বিমান আসছে। চুক্তির মূল বৈশিষ্ট্য হল প্রথম ১৬টি বিমান স্পেন থেকে তৈরি হয়ে আসবে এবং বাকি ৪০টি ভারতে তৈরি হবে। গুজরাটের ভাদোদরায় স্থাপিত ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইনে (এফএএল) এই বিমানগুলোর সমাবেশ চলছে।এয়ারবাস ইন্ডিয়া এবং টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেডের (টাসল) যৌথ উদ্যোগে ভাদোদরা প্ল্যান্টটি দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

   

আরও দেখুনঃ বেদ -গীতা পাঠ, যোগ ধর্মীয় কার্যকলাপের অংশ নয়! বড় নির্দেশ আদালতের

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দেশীয় সি-২৯৫ বিমানটি আসছে সেপ্টেম্বরে আইএএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে। এরপর ধাপে ধাপে বাকি বিমানগুলো সরবরাহ করা হবে।সম্পূর্ণ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় বিমানবাহিনী হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সি-২৯৫ অপারেটর। বর্তমানে এই বিমানটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হলেও, এত বড় সংখ্যায় একসঙ্গে কোনো দেশ ব্যবহার করবে না।

সি-২৯৫ বিমানটি স্বল্প দূরত্বের পরিবহন, সৈন্য স্থানান্তর, মালামাল পরিবহন, চিকিৎসা উদ্ধার এবং দুর্গম এলাকায় অপারেশনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় দিক হলো স্থানীয় উৎপাদনের ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্ব। প্রথমদিকে স্থানীয় উপাদানের হার থাকবে ৪৮ শতাংশ, যা পরবর্তী বিমানগুলোতে বেড়ে ৭৫ শতাংশে পৌঁছাবে। এর ফলে ভারতীয় শিল্পোদ্যোক্তা, এমএসএমই এবং সাপ্লাই চেইনের হাজারো কর্মী উপকৃত হবেন। দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতে এটি একটি বড় লাফ।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রকল্প শুধু সংখ্যাগতভাবে নয়, প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। ভারত এখন আর শুধু বিমান কিনছে না, নিজেই তৈরি করছে। এর মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ ঘটবে।