নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে তৈরি হয়েছে চরম অস্থিরতা। এই পরিস্থিতিতে দেশে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি-র সম্ভাব্য আকাল সামাল দিতে বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। এলপিজি-র বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এবার দেশের সব পেট্রল পাম্প এবং রেশন দোকান থেকে কেরোসিন বিক্রির ছাড়পত্র দিল কেন্দ্র। রবিবার রাতে প্রকাশিত কেন্দ্রের এক বিশেষ গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আপাতত আগামী ৬০ দিন বা দু’মাসের জন্য এই বিকল্প ব্যবস্থা চালু থাকবে।
কী কী নিয়ম শিথিল করল কেন্দ্র?
বাড়িতে বাড়িতে কেরোসিনের সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে ‘পেট্রোলিয়াম সেফটি অ্যান্ড লাইসেন্সিং’ নিয়মে বড়সড় শিথিলতা এনেছে মোদী সরকার। বলা হয়েছে- দেশের প্রতিষ্ঠিত তেল কোম্পানিগুলির দ্বারা পরিচালিত পেট্রল পাম্পগুলিতে এবার থেকে সর্বাধিক ৫০০০ লিটার পর্যন্ত কেরোসিন মজুত রাখা যাবে। পেট্রল পাম্পের পাশাপাশি রেশন দোকানগুলির মাধ্যমেও গণবণ্টন ব্যবস্থায় কেরোসিন বিক্রির ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
পরিবর্তিত নিয়মে, ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন জেলাপিছু দু’টি করে সার্ভিস স্টেশন চিহ্নিত করবে, যেখানে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কেরোসিন মজুত রাখা হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে উন্নতমানের কেরোসিন বরাদ্দের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
নেপথ্যে কি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ?
হরমুজ় প্রণালী দিয়ে ভারতে অপরিশোধিত তেল আসার পরিমাণ কমলেও, দেশে জ্বালানি বা রান্নার গ্যাসের কোনও সঙ্কট রয়েছে বলে সরকারিভাবে মানতে নারাজ কেন্দ্র। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শাসক শিবিরের তাবড় মন্ত্রীরা সংসদে দাঁড়িয়ে দাবি করেছেন, জ্বালানি ক্ষেত্রে ভয়ের কোনও কারণ নেই। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার মুখে সঙ্কটের কথা অস্বীকার করলেও, রবিবার রাতে আচমকা নিয়ম শিথিল করে কেরোসিন বিক্রির এই সিদ্ধান্ত বুঝিয়ে দিচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ ভারতের বাজারেও এসে পড়েছে।
পরিস্থিতি সামলাতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক রাজনাথের
জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে শনিবারই ইনফর্মাল গ্রুপ অফ মিনিস্টারসদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্মলা সীতারামন, কিরেণ রিজিজু, হরদীপ সিং পুরী, মনোহর লাল খট্টর এবং জেপি নাড্ডা-র মতো হেভিওয়েট মন্ত্রীরা। পশ্চিম এশিয়ার দ্রুত বদলে চলা পরিস্থিতির মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপর জোর দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের মন্ত্রী এবং সচিবদের মধ্যে কড়া সমন্বয় রেখে কাজ করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।




















