যুদ্ধ-আবহে প্রস্তুতি কতদূর? আগামীকাল মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ভারতের অর্থনীতিতে তার সম্ভাব্য প্রভাব, বিশেষ করে রান্নার গ্যাস (LPG) ও তেলের জোগানের বিষয়ে পর্যালোচনা করতে আগামীকাল সন্ধ্যা সাড়ে…

India Energy Security Meeting

নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ভারতের অর্থনীতিতে তার সম্ভাব্য প্রভাব, বিশেষ করে রান্নার গ্যাস (LPG) ও তেলের জোগানের বিষয়ে পর্যালোচনা করতে আগামীকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মূলত জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা, শক্তি নিরাপত্তা এবং বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করা হবে। কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যগুলির সমন্বয় বৃদ্ধি এবং ‘টিম ইন্ডিয়া’ হিসেবে একযোগে কাজ করার বার্তার পাশাপাশি, এই বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কৌশল নিয়েও আলোচনা হতে পারে। তবে, যে সমস্ত রাজ্যে বর্তমানে নির্বাচন চলছে, আদর্শ আচরণবিধির (MCC) কারণে সেখানকার মুখ্যমন্ত্রীরা এই বৈঠকে অংশ নেবেন না। পরিবর্তে, ক্যাবিনেট সচিবালয়ের মাধ্যমে ওই রাজ্যগুলির মুখ্য সচিবদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। যদিও ভারত এই অবরোধের আওতার বাইরে রয়েছে, তবুও রান্নার গ্যাসের জোগানে কিছুটা ঘাটতি দেখা দেওয়ায় আগামী দিনে কঠিন পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে যে, আপাতত আশঙ্কার কোনও কারণ নেই। দেশে বর্তমানে আগামী ৬০ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। জল্পনায় কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে সরকারের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, জ্বালানির জোগান স্থিতিশীল রয়েছে এবং তা যথাযথভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, আগামী প্রায় দু’মাসের জন্য অপরিশোধিত তেলের ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ভারত ৪০টিরও বেশি দেশ থেকে তেল আমদানি করে, ফলে একটিমাত্র রুটের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কম। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, দেশের শোধনাগারগুলি পূর্ণ ক্ষমতার চেয়েও বেশি মাত্রায় কাজ করছে। ভারতের মোট মজুত ক্ষমতা ৭৪ দিনের হলেও, কৌশলগত মজুত মিলিয়ে বর্তমানে ৬০ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে সরকারের হাতে।

   

এর আগে সংসদে বক্তব্য রাখার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে সতর্ক করে জানিয়েছিলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সঙ্কট বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবল চাপ সৃষ্টি করছে এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতের জেরে ইতিমধ্যেই জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটগুলি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার ফলে পেট্রোল, ডিজেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং সারের জোগান ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রতিনিয়ত নজর রাখছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, ভারতের অর্থনীতির ভিত যথেষ্ট মজবুত। তবে, এই অভূতপূর্ব সঙ্কটের মোকাবিলায় ব্যতিক্রমী সমাধানের প্রয়োজন হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে, কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ের মতোই ‘টিম ইন্ডিয়া’ মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে রাজ্য সরকারগুলিকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি, দরিদ্র ও পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।