সমুদ্রের নিচে শত্রুদের জন্য তৈরি মরণফাঁদ, MIGM নৌ-মাইন প্রস্তুত DRDO-র

নয়াদিল্লি, ২১ মার্চ: ভারত তার সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। ডিআরডিও এবং ভারতীয় নৌবাহিনী যৌথভাবে এমআইজিএম বা মাল্টি-ইনফ্লুয়েন্স গ্রাউন্ড মাইন নামে…

Indian Navy

নয়াদিল্লি, ২১ মার্চ: ভারত তার সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। ডিআরডিও এবং ভারতীয় নৌবাহিনী যৌথভাবে এমআইজিএম বা মাল্টি-ইনফ্লুয়েন্স গ্রাউন্ড মাইন নামে একটি নতুন অত্যাধুনিক নৌ-মাইন তৈরি করেছে।

এটি একটি ডুবো অস্ত্র যা সমুদ্রতলে পুঁতে রাখা হয়। মাইনটি বিস্ফোরিত না হওয়া পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় থাকে। যতক্ষণ না কোনো শত্রু জাহাজ বা সাবমেরিন এর কাছে আসে, এটি লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা মাত্রই বিস্ফোরিত হয়ে সেটিকে ধ্বংস করে দেয়।

   

MIGM কী?
MIGM-এর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর মাল্টি-সেন্সর সিস্টেম। এতে চৌম্বকীয়, শব্দভিত্তিক এবং চাপ সেন্সর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই মাইনগুলো জাহাজ বা ডুবোজাহাজের স্বতন্ত্র ‘স্বাক্ষর’ শনাক্ত করে। এর মানে হলো, শত্রুপক্ষ স্টিলথ প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও এই মাইনগুলো তাদের শনাক্ত করতে পারে।

MIGM কীভাবে কাজ করে?
এর স্মার্ট টার্গেট শনাক্ত করার ক্ষমতাও রয়েছে। এর মানে হলো, এটি সবকিছুকে আক্রমণ করে না, বরং প্রথমে ডেটা বিশ্লেষণ করে। এর ফলে এটি উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানে, যা ভুল সংকেত কমিয়ে নির্ভুলতা বাড়ায়।

এটি কখন পরীক্ষা করা হয়েছিল?
এই সিস্টেমটি ২০২৫ সালের মে মাসে সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল। এটি নৌ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণাগারে তৈরি করা হয়েছিল। যদিও ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড এবং অ্যাপোলো মাইক্রোসিস্টেমসের মতো সংস্থাগুলি এর উন্নয়নে জড়িত, সিস্টেমটি এখন ভারতীয় নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রস্তুত বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং কী বললেন?
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও এই সাফল্যের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন যে এটি ভারতের সামুদ্রিক শক্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। মিজিএম-এর প্রবর্তন ভারতকে বহুবিধ সুবিধা প্রদান করবে। এটি শত্রু জাহাজ ও সাবমেরিনের চলাচল সীমিত করবে এবং একটি শক্তিশালী সামুদ্রিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে। এটি ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানকেও এগিয়ে নেবে, কারণ এটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।