নয়াদিল্লি: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই-এর (India)অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল যোগ দেবে। বিহারের রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং কেন্দ্রীয় বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা এই অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আগামী ৪ জুলাই থেকে ইরানে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদীর পূর্বনির্ধারিত ইন্দোনেশিয়া, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সফরের কারণে তিনি সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তাই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনা করে ভারত সরকার এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।সৈয়দ আতা হাসনাইন একজন অভিজ্ঞ প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট জেনারেল। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কাশ্মীরসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে বিহারের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে পবিত্র মার্গেরিটা কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। দুই প্রতিনিধির উপস্থিতি ভারতের পক্ষ থেকে ইরানের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মানের বার্তা বহন করবে।ভারত-ইরান সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি, সংস্কৃতি ও কৌশলগত সহযোগিতা রয়েছে। চাবাহার বন্দর প্রকল্প এই সম্পর্কের অন্যতম স্তম্ভ। আয়াতুল্লাহ খামেনেই ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনে দীর্ঘ সময় ধরে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছেন।
তাঁর মৃত্যু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। এমন একটি সংবেদনশীল সময়ে ভারতের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতার বার্তা দেবে।বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রতিনিধি দল ইরানে পৌঁছে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেবেন এবং ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
এই সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনাও হতে পারে। ভারত সবসময় ইরানের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। একই সঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়েও ভারত সজাগ রয়েছে।


