নয়াদিল্লি: হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল ভারতের আতিথেয়তা শিল্পে! দেশে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের সরবরাহ হঠাৎ করে স্থগিত হয়ে যাওয়ায় ব্যাঙ্গালোর, মুম্বই, চেন্নাই এবং জয়পুরের মতো বড় শহরগুলিতে হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলির রান্নাঘর কার্যত বন্ধ হওয়ার জোগাড়।
যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, “জ্বালানির কোনও ঘাটতি নেই, বিস্তারিত রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।”
কেন এই আচমকা জ্বালানি সংকট?
ইরান, ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটছে, যা ভারতের এলপিজি সরবরাহে বড়সড় টান ফেলেছে।
ভারত তার বার্ষিক ৩.১৩ কোটি টন এলপিজি ব্যবহারের প্রায় ৬২ শতাংশই আমদানি করে, যার বেশিরভাগই আসে এই সংঘাতপূর্ণ পথ দিয়ে।
পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, দক্ষিণ ইরাকের তেলক্ষেত্রগুলিতে উৎপাদন ৭০ শতাংশ কমানো হয়েছে এবং কুয়েত ইতিমধ্যেই ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ ঘোষণা করেছে।
এসমা (ESMA) জারি ও কেন্দ্রের কড়া পদক্ষেপ India commercial LPG supply crisis
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের চেয়ে সাধারণ গৃহস্থের রান্নার গ্যাসকে অগ্রাধিকার দিতে কেন্দ্র ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন’ (ECA) এবং ‘অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা রক্ষণাবেক্ষণ আইন’ বা ‘এসমা’ (ESMA) প্রয়োগ করেছে।
নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি: মজুতদারি রুখতে গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। দেশের শোধনাগারগুলি পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করছে এবং সমস্ত উৎপাদন কেবল সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বরাদ্দ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রেশন ব্যবস্থা: প্রাকৃতিক গ্যাস বরাদ্দের ক্ষেত্রে চার-স্তরের একটি অগ্রাধিকার ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার। পাইপলাইনের গ্যাস এবং সিএনজি (CNG) চালিত যানগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্ট, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং তেল শোধনাগারের মতো জায়গাগুলিতে সরবরাহ সাময়িকভাবে কমানো হয়েছে।
সঙ্কটে হোটেল ও রেস্তোরাঁ
বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের। ব্যাঙ্গালোর হোটেল অ্যাসোসিয়েশন রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, “আজ থেকে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ। প্রবীণ নাগরিক, শিক্ষার্থী এবং হাসপাতালের মতো জরুরি পরিষেবাগুলি আমাদের ওপর নির্ভরশীল। সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ চাই।” এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় সহ-সভাপতি আর. কে. গুপ্তাও এই সাসপেনশনের কথা নিশ্চিত করেছেন।
বিকল্পের সন্ধানে কমিটি গঠন
হোটেল ও রেস্তোরাঁ শিল্পের এই ক্ষোভ মেটাতে এবং অবিলম্বে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী আইওসি, এইচপিসিএল এবং বিপিসিএল-এর আধিকারিকদের নিয়ে একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন। এছাড়াও ভারত বিকল্প এলপিজি আমদানির জন্য আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং নরওয়ের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনা শুরু করেছে।



















