ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে নেই নিরাপত্তারক্ষী! ব্লগারের ভাইরাল ভিডিওতে চাঞ্চল্য

india-bangladesh-border-meghalaya

মেঘালয়: ঘুসপেট তাড়াতে হবে, বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের ভারত থেকে নির্বাসন দিতে হবে (India Bangladesh)। এই ধরণের রাজনৈতিক মন্তব্য এখন প্রায় প্রত্যেকদিনই শোনা যায়। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীরা ঢোকে কি ভাবে এবং কোথায় দিয়ে সেই ভিডিও ফাঁস করলেন এক ট্রাভেল ব্লগার।

জনৈক ব্লগার দেখিয়েছেন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মেঘালয় অংশ। সেখানে কোনো বিএসএফ জওয়ান নেই, কোনো সতর্কতা সাইনবোর্ড নেই শুধু একটা খোলা জায়গা, যেখান দিয়ে যে কেউ দু’দেশের মধ্যে অবাধে যাতায়াত করতে পারে।

   

ভিডিওতে সেই ব্লগার মন্তব্য করেছেন “আমরা মানুষকে ফ্রি এন্ট্রি দিই, পরে ধরপাকড় করে নাটক করি। সবই রাজনীতি, ভোটের জন্য ড্রামা!” এই ভিডিও দেখে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন সত্যিই কি ভারতের সীমান্ত এত অরক্ষিত? অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এত কড়াকড়ির কথা বলা হয়, কিন্তু বাস্তবে কী ঘটছে? মেঘালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত প্রায় ৪৪৩ কিলোমিটার লম্বা। এই অংশের ভূখণ্ড অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়, নদী, ঘন জঙ্গল আর খাড়া ঢালু।

ইংরেজবাজারে প্রার্থী হতে চাইছে না কেউ! তৃণমূলে বাড়ছে জট

এ কারণে পুরো সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিএসএফের তথ্য অনুসারে, মেঘালয়ের প্রায় ২০ শতাংশ সীমান্ত এখনও আনফেন্সড। কিছু জায়গায় বন্যপ্রাণীর চলাচলের জন্য করিডর রাখা হয়েছে। তবে এই খোলা অংশগুলোই অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং অবৈধ যাতায়াতের পথ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ভাইরাল ভিডিওটি মেঘালয়ের দাওকি বা চেরাপুঞ্জির কাছাকাছি এলাকার বলে মনে হচ্ছে। সেখানে নদী পেরিয়ে বা পাহাড়ি পথ দিয়ে সহজেই সীমান্ত অতিক্রম করা যায়।

জনৈক ব্লগার দেখিয়েছেন, কোনো চেকপোস্ট নেই, কোনো পাহারা নেই শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য আর খোলা সীমানা। এই ধরনের ভিডিও আগেও ভাইরাল হয়েছে। ২০২৪ সালে এক বাংলাদেশি ভ্লগারের ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল কীভাবে সিলেট থেকে মেঘালয়ে অবাধে ঢোকা যায়। সেই ভিডিওতেও বিএসএফের অনুপস্থিতি এবং দুর্বল নিরাপত্তার কথা উঠে এসেছিল। এবার ভারতীয় ভ্লগারের ভিডিও সেই পুরনো আলোচনাকে নতুন করে জ্বালিয়ে তুলেছে।

ভিডিওর কমেন্টে যে রাজনৈতিক ড্রামার কথা বলা হয়েছে, সেটাও অনেককে নাড়া দিয়ে গিয়েছে। একদিকে সরকার অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর আইন, ডিটেনশন ক্যাম্প, সিএএ-র কথা বলে, অন্যদিকে সীমান্তের কিছু অংশ এত খোলামেলা যে যে কেউ পার হয়ে যেতে পারে। সমালোচকরা বলছেন, এটা শুধু ভোটের রাজনীতি অনুপ্রবেশকারীদের ধরে দেখানো হয় কঠোরতা, কিন্তু মূল সমস্যা সীমান্তের নিরাপত্তাহীনতা সমাধান হয় না। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোয় এই ইস্যু স্পর্শকাতর।

তবে বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সতর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় একাধিক অনুপ্রবেশের চেষ্টা আটকানো হয়েছে। কিন্তু ভাইরাল ভিডিওগুলো প্রশ্ন তুলছে সত্যিই কি সীমান্ত সুরক্ষিত? নাকি কিছু অংশে এখনও বড় ফাঁক রয়ে গিয়েছে? এই ভিডিও শুধু চাঞ্চল্যই ছড়ায়নি, বরং জাতীয় নিরাপত্তার এক গুরুতর ইস্যুকে সামনে এনে দিয়েছে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন