ইংরেজবাজারে প্রার্থী হতে চাইছে না কেউ! তৃণমূলে বাড়ছে জট

ইংরেজবাজারে প্রার্থী সংকট, রতুয়ায় প্রার্থীর ভিড় মালদার রাজনীতি (TMC candidate)এই মুহূর্তে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে এক জটিল ধাঁধার মতো। বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে মালদা জেলা ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
tmc-candidate-crisis-malda-english-bazar-ratua

ইংরেজবাজারে প্রার্থী সংকট, রতুয়ায় প্রার্থীর ভিড় মালদার রাজনীতি (TMC candidate)এই মুহূর্তে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে এক জটিল ধাঁধার মতো। বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে মালদা জেলা নিয়ে শাসকদলের অস্বস্তি। বৃহস্পতিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মালদা সফরের ঠিক আগেই জেলা রাজনীতিতে যে ছবি উঠে আসছে, তা তৃণমূলের জন্য মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়।

একদিকে রতুয়া বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার জন্য যেন হুড়োহুড়ি। খোদ রতুয়ার তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায় প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, সেখানে অন্তত ১৬ জন নেতা প্রার্থী হতে আগ্রহী। তাঁর কথায়, “রতুয়া সেফ সিট। মালদার মধ্যে সেফ সিট ফর সমর মুখার্জি। নট ফর আদার্স।” এই বক্তব্যে একদিকে আত্মবিশ্বাস, অন্যদিকে দলীয় অস্বস্তিও স্পষ্ট। একই সুর শোনা গেছে জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ছোটন মল্লিকের গলাতেও। তাঁর দাবি, বিভিন্ন কর্মসূচিতে বহু নেতা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে প্রার্থী হওয়ার কথা বলছেন।

   

মতুয়া মহাসম্মেলনে বনগাঁ সফরে শুভেন্দু

কিন্তু এই ভিড়ের সম্পূর্ণ উল্টো ছবি ইংরেজবাজার বিধানসভা কেন্দ্রে। তৃণমূলের অন্দরমহলের একাংশের বক্তব্য, সেখানে প্রার্থী হতে আগ্রহী নেতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যেই শুরু হয়েছে চাপা উদ্বেগ। মালদা জেলার ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে একাধিক আসনে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে দল যে সমস্যায় পড়েছে, তা কার্যত প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

ইংরেজবাজারের গুরুত্ব আলাদা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এখানে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীকে হারিয়ে জয়ী হন বিজেপির শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, হিন্দু অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে বিজেপি বিপুল ভোটে এগিয়ে ছিল।

ফলে ইংরেজবাজার তৃণমূলের কাছে ক্রমশ কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। অন্যদিকে, রতুয়ায় লোকসভা ভোটের নিরিখে বিজেপি কিছুটা পিছিয়ে থাকায় সেই আসনকে ‘সেফ’ বলেই দেখছেন তৃণমূলের একাংশ। এই দুই কেন্দ্রের বিপরীত রাজনৈতিক বাস্তবতাই মালদা নিয়ে তৃণমূলের অঙ্ক আরও জটিল করে তুলেছে।

এই পরিস্থিতিতে কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর বক্তব্যও তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, “কে প্রার্থী হবেন, সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ঠিক করবেন।” যদিও এই বক্তব্যে জল্পনা কমেনি, বরং বেড়েছে। বিজেপির তরফে দাবি করা হচ্ছে, তৃণমূলের ছোট ও মাঝারি স্তরের একাধিক নেতা নাকি স্বীকার করছেন যে ইংরেজবাজারে দাঁড়ানোর ঝুঁকি কেউ নিতে চাইছেন না।

এর মধ্যেই রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় এনেছেন মালদার ভূমিকন্যা মৌসম বেনজির নূর। কয়েকদিন আগেই তিনি তৃণমূল ছেড়ে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন। এই ঘটনা মালদা রাজনীতিতে তৃণমূলের ভিত আরও দুর্বল করেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একই সঙ্গে বিজেপিও মালদাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংগঠন শক্ত করছে।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই মালদার মন বোঝা কি সত্যিই কঠিন হয়ে যাচ্ছে তৃণমূলের কাছে? ইংরেজবাজারে প্রার্থী সংকট আর রতুয়ায় প্রার্থীর ভিড় কি আসন্ন বিধানসভা ভোটে শাসকদলের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরের পরেই হয়তো সেই প্রশ্নের কিছুটা হলেও উত্তর মিলবে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google