ভারতীয় বিমান বাহিনী (আইএএফ) দ্রুতগতিতে নতুন প্রযুক্তিতে অগ্রসর হচ্ছে। এই লক্ষ্যে, আইএএফ একটি হাইড্রোজেন-চালিত, চালকবিহীন, মাঝারি উচ্চতার, ভারী মালামাল বহনকারী এয়ারশিপ তৈরির জন্য একটি বিশেষ প্রকল্প শুরু করেছে। এই এয়ারশিপটি দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে থাকতে সক্ষম হবে এবং নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।
এই আকাশযানটি প্রায় ৩০,০০০ ফুট উচ্চতায় উড়তে এবং ৫,০০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত পেলোড বহন করতে সক্ষম হবে। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হবে এর দীর্ঘ-পাল্লার উড্ডয়ন ক্ষমতা। এটি একটানা ১০ দিন পর্যন্ত আকাশে থাকতে পারে। এর মানে হলো, একবার উড্ডয়ন করলে এটি বেশ কয়েক দিন ধরে একটানা নজরদারি চালাতে পারবে।
ভারতীয় সংস্থাগুলির কাছ থেকে পরামর্শ চাওয়া হচ্ছে
এই প্রকল্পটি প্রতিযোগিতামূলক ভিত্তিতে তৈরি করা হবে। ভারতীয় সংস্থাগুলিকে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তারা বিদেশী সংস্থাগুলির সাথেও সহযোগিতা করতে পারে। তবে, প্রকল্পের অন্তত ৫০ শতাংশ অবশ্যই দেশীয় হতে হবে, যাতে দেশের অভ্যন্তরে প্রযুক্তির বিকাশ সম্ভব হয়।
এয়ারশিপে হাইড্রোজেনের ব্যবহার
এই এয়ারশিপটি হাইড্রোজেন ব্যবহার করবে, যা এটিকে আরও হালকা এবং দীর্ঘস্থায়ী করে তুলবে। হাইড্রোজেনকে পরিবেশবান্ধবও মনে করা হয়, কারণ এটি কেবল জলীয় বাষ্প উৎপন্ন করে। তবে, এর নিরাপদ ব্যবহার একটি উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ।
একটি হাইব্রিড সিস্টেমও যুক্ত করা হবে
আইএএফ এই এয়ারশিপটিতে একটি হাইব্রিড সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে, যা হাইড্রোজেনকে সৌরশক্তি, ব্যাটারি বা ফুয়েল সেলের মতো প্রযুক্তির সাথে একত্রিত করবে। এটি এর উড্ডয়নের সময়কাল আরও বাড়িয়ে দেবে এবং এটিকে দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালনা করতে সক্ষম করবে।
এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো কী হবে?
এই আকাশযানটি শুধু নজরদারিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে, যা ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত সংকেত প্রেরণ করতে সক্ষম। এটিকে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সরঞ্জাম দিয়েও সজ্জিত করা যাবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভবিষ্যতে এটিকে ড্রোন উৎক্ষেপণ মঞ্চ হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি মাঝ-আকাশে থাকাকালীন ছোট ড্রোন বা অস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারবে, যা সেনাবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা আরও বাড়িয়ে তুলবে।
কতগুলি এয়ারশিপ কেনা হবে?
আইএএফ এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি যে কতগুলি এয়ারশিপ কেনা হবে। প্রকল্পটি বর্তমানে উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে, সফল হলে এটি ভারতের নজরদারি ক্ষমতা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং নেটওয়ার্ক-ভিত্তিক যুদ্ধকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করতে পারে।




















