হায়দরাবাদ: হায়দরাবাদের একটি স্কুলের হোমওয়ার্কে কুরআনের (Hyderabad)‘কলমা’ লেখা ও মুখস্থ করার নির্দেশ নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে তুমুল বিতর্ক। হায়দরাবাদের একটি স্কুলের শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের কলমা, আজানের বাক্য ও কুরআনের কিছু আয়াত মুখস্থ করার হোমওয়ার্ক দেন। এর মধ্যে অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী হিন্দু পরিবারের। ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্ক দানা বাঁধে।
অনেক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, ধর্মীয় স্বাধীনতার নামে শিশুদের উপর অন্য ধর্মের বিষয় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।এই প্রেক্ষাপটে নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করেছেন অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মাওলানা সাজিদ রশিদি। তিনি বলেন, “এগুলো এমন কাজ যা অপ্রয়োজনীয় ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ায়।
আরও দেখুনঃ গাজিয়াবাদে শম্ভু নাম নিয়ে জোর করে তরুণীর ধর্মান্তকরণ করতে গিয়ে পুলিশের জালে সামির আলভি
প্রশ্ন হল, যে ব্যক্তি মুসলিম নয়, তাকে কুরআনের আয়াত, আজানের বাক্য বা কলমা কেন মুখস্থ করানো হবে? কেন তাকে সেগুলো আবৃত্তি করতে বলা হবে? এটাই বড় প্রশ্ন। আমার বিশ্বাস, এমন ঘটনা ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয় টেলিভিশনের লাইমলাইটে আসার জন্য এবং কয়েকদিন খবরে থাকার জন্য।”মাওলানা সাজিদ রশিদির এই মন্তব্যটি বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তিনি আরও বলেন যে, ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার নামে শিশুদের মনে জোর করে কিছু ঢোকানো উচিত নয়। প্রত্যেক ধর্মের নিজস্ব বিশ্বাস ও রীতিনীতি রয়েছে। কোনো শিশুকে তার নিজের ধর্মের বাইরে গিয়ে অন্য ধর্মের মূলমন্ত্র মুখস্থ করতে বাধ্য করলে তা তার মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করে বলেন, শিক্ষার নামে ধর্মীয় প্রচার চালানো উচিত নয়।
আরও দেখুনঃ EPFO: ১৫ জুলাইয়ের মধ্যেই ৩৪ কোটি অ্যাকাউন্টে জমা পড়ল ৮.২৫% সুদ
ঘটনাটি হায়দরাবাদের একটি প্রাইভেট স্কুলে ঘটেছে। শিক্ষক ছাত্রদের একটি নোটবুকে কলমা শরিফ লিখে আনতে এবং মুখস্থ করে আসতে বলেন। অনেক শিশু বাড়িতে ফিরে অভিভাবকদের কাছে অভিযোগ করেছে। কিছু অভিভাবক বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়ে যান। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, শিশুরা কলমা লিখে হোমওয়ার্ক জমা দিয়েছে।
এতে হিন্দু সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। অনেকে বলেন, এটি সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের একটি অংশ।অন্যদিকে, স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, এটি ছিল ধর্মীয় সহনশীলতা ও জ্ঞানার্জনের অংশ। তারা দাবি করেন, বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে জানানোর জন্য এমন অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, শুধু একটি ধর্মের মূলমন্ত্র মুখস্থ করানো এবং অন্য ধর্মের শিশুদের উপর চাপিয়ে দেওয়া সহনশীলতার পরিবর্তে একপেশে দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয়।
আরও দেখুনঃ ‘শরীর আর দিচ্ছে না, কিন্তু লড়াই চলবে’, ১৯ দিনেও অনশনে অনড় সোনাম ওয়াংচুক
মাওলানা সাজিদ রশিদি আরও যোগ করেন, “ইসলাম শান্তির ধর্ম। জোর করে বা প্রতারণা করে কাউকে ধর্মের কথা শেখানো ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে যায় না। শিশুদের বয়সে তাদের নিজের ধর্ম ও সংস্কৃতি শেখানো উচিত। পরে বড় হয়ে তারা নিজেরাই অন্য ধর্ম সম্পর্কে জানতে পারবে। কিন্তু স্কুলের হোমওয়ার্কের মাধ্যমে এভাবে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। এতে শুধু বিদ্বেষ বাড়ে, সম্প্রীতি নয়।”





