আহমেদাবাদ: গুজরাট অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াডের (Gujarat ATS)একটি সাহসী অভিযানে উত্তরপ্রদেশের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে, যে অ-মুসলিমদের, বিশেষ করে হিন্দুদের টার্গেট করে লক্ষ্যভেদী খুনের পরিকল্পনা করছিল। গ্রেফতারকৃত যুবকের নাম মোহাম্মদ ফাইজান শেখ (২২), যিনি রামপুর জেলার দুন্ডাওয়ালা গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে গুজরাটের নবসারি জেলার চারপুল এলাকায় দর্জির কাজ করতেন।
এটিএসের অভিযানে তার কাছ থেকে একটি পিস্তল ও ছয়টি লাইভ কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।এটিএসের ডিআইজি সুনীল জোশি সাংবাদিকদের জানান, গোপন সূত্র থেকে খবর আসে যে ফাইজান উত্তরপ্রদেশে কয়েকজন পরিচিত যুবককে গুলি করে খুনের পরিকল্পনা করছে, যাতে সমাজে আতঙ্ক ছড়ানো যায়। তদন্তে তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ‘al.Faizangaza’ চিহ্নিত হয়। সেখান থেকে তার অবস্থান নবসারিতে নিশ্চিত হয়।
আইএএস বদলি নিয়ে নন্দিনীকে কড়া নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের
বুধবার এটিএস ও নবসারি পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ২৯ পাতার সন্দেহজনক সাহিত্য উদ্ধার হয়েছে, যাতে আরবি/উর্দু ভাষায় জিহাদের প্রচার, আল কায়েদা ও জৈশ-ই-মোহাম্মদের মতো নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতি আকর্ষণের কথা রয়েছে।জিজ্ঞাসাবাদে ফাইজান স্বীকার করেছে যে গত ৬-৭ মাস ধরে সে ‘মোহাম্মদ আবু বকর’ নামে একজনের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রামে যোগাযোগ রাখছিল।
তিন মাস আগে সে একটি অনলাইন গ্রুপে যোগ দেয়, যেখানে নবী মোহাম্মদকে অপমান করার অভিযোগে কয়েকজন ব্যক্তির ছবি ও নাম ছড়ানো হতো এবং তাদের খুনের নির্দেশ দেওয়া হতো। ফাইজান এই কনটেন্ট অন্যদের কাছে ফরওয়ার্ড করত এবং খুনের ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিল। সে স্বীকার করেছে যে ছয় মাস আগে উত্তরপ্রদেশ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছ থেকে পিস্তল ও কার্তুজ কিনেছে, যাতে এই খুনগুলো সম্পন্ন করা যায়।
এটিএসের দাবি, ফাইজান ‘লোন উলফ’ অপারেটর হিসেবে কাজ করছিল। পাকিস্তান-ভিত্তিক জৈশ-ই-মোহাম্মদ ও আল কায়েদার মতো জঙ্গি গোষ্ঠীর চরমপন্থী মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সে এই পরিকল্পনা করছিল। তার ফোনে জিহাদি ভিডিও, কাশ্মীরকে ভারত থেকে আলাদা দেখানো ম্যাপ, নিষিদ্ধ সংগঠনের সমর্থনে কনটেন্ট পাওয়া গেছে। ফাইজান ও আবু বকর ভারত সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ও হিংসা ছড়ানোর ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত। আবু বকর এখনও পলাতক।



