আদানির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা উচিত হয়নি! স্পষ্ট করল মার্কিন আদালত

নিউইয়র্ক: ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানি (Gautam Adani)এবং তাঁর সাত সহযোগীর বিরুদ্ধে আমেরিকার ফেডারেল আদালতে দায়ের করা ফৌজদারি মামলাটি আদৌ দায়ের করা উচিত ছিল না। আমেরিকার…

adani-us-criminal-case

নিউইয়র্ক: ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানি (Gautam Adani)এবং তাঁর সাত সহযোগীর বিরুদ্ধে আমেরিকার ফেডারেল আদালতে দায়ের করা ফৌজদারি মামলাটি আদৌ দায়ের করা উচিত ছিল না। আমেরিকার বিচার বিভাগ (ডিওজে) এই কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। ৪ জুলাই আদালতে জমা দেওয়া এক দশ পৃষ্ঠার তীক্ষ্ণ ভাষার ফাইলিংয়ে ডিওজে বলেছে, মামলাটি “আইনত ত্রুটিপূর্ণ” এবং “কূটনৈতিকভাবে ক্ষতিকর” ছিল।

তারা আরও জানিয়েছে, এই মামলা এক বছর আগেই বাদ দেওয়া উচিত ছিল অথবা প্রথম থেকেই দায়ের করা উচিত হয়নি।এই ঘোষণা আদানি গ্রুপের জন্য বড় স্বস্তির খবর। মার্কিন সরকার নিজেই স্বীকার করেছে যে, তাদের অভিযোগের ভিত্তি দুর্বল ছিল। ডিওজের ফাইলিংয়ে বলা হয়েছে, অভিযোগের পুরো ঘটনা ভারতে কেন্দ্রীভূত ছিল। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোনো অনিয়ম খুঁজে পায়নি। বিনিয়োগকারীরাও কোনো আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হননি।

   

আরও দেখুনঃ কেরলে পুলিশের অভিযান! ‘মাশা আল্লাহ’ লেখা বাড়িতে উদ্ধার হামাস-স্টাইল সুড়ঙ্গ- বিপুল মাদক

সিকিউরিটিজ চার্জগুলো আইনত ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ডিওজে আরও যুক্তি দিয়েছে যে, আমেরিকাকে “বিশ্বের পুলিশ” হিসেবে কাজ করা উচিত নয়।প্রসঙ্গত, ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ নিকোলাস গ্যারাউফিস আগে ডিওজেকে মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে বলেছিলেন। তিনি ডিওজের প্রাথমিক আবেদনকে “bland and conclusory” বলে সমালোচনা করেছিলেন।

আরও দেখুনঃ মেলবোর্ন সফরের আগেই মোদীকে মৃত্যু হুমকিতে চাঞ্চল্য

তার জবাবে ডিওজে এবার শক্ত অবস্থান নিয়ে জানিয়েছে যে, মামলা চালিয়ে যাওয়া তাদের এনফোর্সমেন্ট অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।২০২৪ সালে দায়ের করা এই মামলায় আদানি এবং অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তারা ভারতীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে সৌর প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছেন এবং আমেরিকার বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করেছেন।

আরও দেখুনঃ যোগী রাজ্যে স্কুল বাস চালকের ধর্মান্তকরণের ফাঁদে ছাত্রী! নাবালিকার সাহসে শ্রীঘরে মুখতার

কিন্তু ডিওজে এখন বলছে, এসব অভিযোগের কোনো যথাযথ আইনি ভিত্তি ছিল না। ভারতে কোনো তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হয়নি আদানি গ্রুপ। বিনিয়োগকারীদেরও কোনো লোকসান হয়নি। ফলে মামলাটিকে “নাম-কলঙ্ক” অভিযান বলে বর্ণনা করেছে ডিওজে।আদানি গ্রুপের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে গ্রুপ বলেছে, “এটি প্রমাণ করে যে অভিযোগগুলো ছিল ভিত্তিহীন।

আমরা সবসময় বলেছি, আমাদের ব্যবসা স্বচ্ছ এবং আইন মেনে চলে।” এই ঘটনা আদানি গ্রুপের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে বড় স্বস্তি এনেছে। গত কয়েক বছর ধরে হিন্ডেনবার্গ রিপোর্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন অভিযোগের মুখে পড়তে হয়েছে গ্রুপকে। কিন্তু এখন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থা নিজেই মামলার দুর্বলতা স্বীকার করায় অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলেছে।