নয়াদিল্লি: ভারত সরকার বিদেশি অবদান নিয়ন্ত্রণ আইন (FCRA)-এর নিয়মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এনেছে। এবার সরকার স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে ধর্মীয় রূপান্তরের (প্রসেলিটাইজেশন) উদ্দেশ্যে বিদেশি টাকা ব্যবহারের আর কোনো সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি অর্থে চালিত কিছু এনজিওর কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল।
নতুন নিয়মে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো ধর্মীয় ক্যাটাগরিতে স্পষ্টভাবে “excluding proselytisation” কথাটি যোগ করা হয়েছে। অর্থাৎ, “ধর্মীয় শিক্ষা”, “বিশ্বাসের ঐতিহ্য সংরক্ষণ” বা “আদিবাসী বিশ্বাস ব্যবস্থা” ইত্যাদি শব্দের আড়ালে আর ধর্মান্তরের কাজ চালানো যাবে না। যেসব সংস্থা এতদিন সামাজিক কাজ বা শিক্ষার নামে বিদেশি তহবিল নিয়ে গ্রামে-গঞ্জে কাজ করতেন, তাদের এখন প্রতিটি পয়সার হিসাব দিতে হবে।
আরও দেখুনঃ আধার কার্ডে বড় চমক! ১ জুলাই থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করুন এই জরুরি কাজ
সরকারের মতে, এই পদক্ষেপ জাতীয় স্বার্থ ও সাংস্কৃতিক নিরাপত্তা রক্ষায় অত্যন্ত জরুরি।নতুন নিয়মে আরও কয়েকটি কড়া ধারা যোগ হয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের এখন এনজিওর মূল কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা অনেক কঠিন হয়ে গেল। চূড়ান্ত দাতাদের পরিচয় প্রকাশ করতেই হবে। অর্থাৎ, কোনো বিদেশি সংস্থা ভারতীয় এনজিওকে টাকা দিলে, সেই টাকার আসল উৎস কোথায় তা লুকিয়ে রাখার সুযোগ আর থাকবে না।
সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলোও এখন সরকারের নজরদারিতে থাকবে। কোন এনজিও কী ধরনের কনটেন্ট প্রচার করছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া, তহবিলের ব্যবহার যাচাইয়ের জন্য মাঠ পর্যায়ে বাধ্যতামূলক যাচাইকরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
যেসব এনজিও দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় বা কোনো কাজ না করে লাইসেন্স ধরে রেখেছিল, তাদের লাইসেন্স বাতিলের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এই সংশোধনীর লক্ষ্য মূলত সেইসব নেটওয়ার্ক যারা ধর্মীয় ও সামাজিক কাজের আড়ালে বিদেশি অর্থে ধর্মান্তরের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চল, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ডসহ বিভিন্ন প্রান্তিক এলাকায় এ ধরনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উঠছিল।
FCRA আইনটি ১৯৭৬ সালে তৈরি হয়েছিল বিদেশি শক্তির অনুপ্রবেশ রোধ করতে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এর সুযোগ নিয়ে অনেক সংস্থা তাদের নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে বলে অভিযোগ। মোদী সরকার ২০২০ সালে আইনটি কঠোর করেছিল। এবারের সংশোধনীকে সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলা হচ্ছে। সরকারি কর্তারা বলছেন, “আমরা কারও ধর্ম পালনের বিরোধিতা করছি না। কিন্তু বিদেশি টাকায় ধর্মান্তর চলতে দেব না। এটা আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন।”



