বিস্ফোরক সত্যপাল: আম্বানির ফাইলে সই করতে তাঁকে ৩০০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল

197
Satyapal malik

নিউজ ডেস্ক: ফের এক বড়সড় বোমা ফাটালেন বিজেপি ঘনিষ্ঠ মেঘালয়ের রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক। রাজস্থানে এক অনুষ্ঠানে সত্যপাল বলেন, অবৈধভাবে দুটি ফাইল সই করার জন্য তাঁকে ৩০০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

ওই ফাইল দুটির একটি ছিল নরেন্দ্র মোদি ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি অনিল আম্বানির এবং অন্যটি ছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের এক প্রথম সারির নেতার। যে সময় ওই ফাইল দুটি সই করার জন্য তাঁর কাছে পাঠানো হয়েছিল সে সময় তিনি কাশ্মীরের রাজ্যপাল ছিলেন বলে সত্যপাল জানিয়েছেন।

কয়েক ঘন্টা আগে সত্যপাল মালিকের বক্তৃতার একটি ভিডিয়ো টুইটারে প্রকাশ হয়। ওই ভিডিও পোস্টে সত্যপাল বলছেন, আমি জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই আমার কাছে দুটি ফাইল আসে। ওই ফাইল দুটি আমাকে সই করে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। ওই ফাইলে সই করলে আমাকে ৩০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। ওই ফাইল দুটির একটি ছিল অনিল আম্বানির এবং অপরটি ছিল আরএসএসের এক প্রথম সারির কর্তার।

এ প্রসঙ্গে সত্যপাল বলেন, তাঁর অফিসের একজন কর্মী তাঁকে বলেছিলেন ওই ফাইল দুটি সই করে দিলে তিনি প্রতিটির জন্য ১৫০ কোটি করে মোট ৩০০ কোটি টাকা পাবেন।

প্রশ্ন হল ওই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে কী বলেছিলেন সত্যপাল। নিজের জবাবও টুইটারে পোস্ট করেছেন মেঘালয়ের বর্তমান রাজ্যপাল। সত্যপাল বলেছেন, অফিসারদের বলেছিলাম আমি পাঁচটা পায়জামা-পাঞ্জাবি নিয়ে কাশ্মীর এসেছি। ওগুলো নিয়েই বাড়ি ফিরে যাব। তাই শেষ পর্যন্ত তিনি কোনও বেআইনি ফাইলে সই করেননি। উল্লেখ্য গত সপ্তাহে রাজস্থানের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় এই কথাগুলি বলেছিলেন সত্যপাল। যদিও মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে সেই অনুষ্ঠানের ভিডিয়োটি টুইটারে প্রকাশ হয়।

সূত্রের খবর জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন রাজ্যপাল যে দুটি ফাইলে সই করার কথা বলেছেন তার একটি ছিল রাজ্যের সরকারি কর্মচারী, সাংবাদিক এবং পেনশনভোগীদের স্বাস্থ্য বীমা সম্পর্কে। এই বীমার জন্য জম্মু-কাশ্মীর সরকার রিলায়েন্স জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের সঙ্গে চুক্তি করেছিল। এই বিমা সংস্থাটির মালিক হল অনিল আম্বানির নেতৃত্বাধীন রিলায়েন্স গ্রুপ। শেষ পর্যন্ত সত্যপাল ওই চুক্তিতে সই না করায় সেটি বাতিল হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় ফাইলটি কী বিষয়ে বা কার তা জানা যায়নি।

সত্যপাল এদিন আরও বলেন, আমি যদি কাশ্মীরে কোনও অন্যায় বা অনৈতিক কাজ করতাম তবে এতদিনে আমার বাড়িতে ইডি, সিবিআই বা আয়কর দফতরের লোকজন পৌঁছে যেত। তবে আমি কাউকেই বিশ্বাস করি না। এসব কথা বলার জন্য ওই সমস্ত কেন্দ্রীয় সংস্থা হয়তো যে কোনও অজুহাতে আমার বাড়িতে চলে আসতে পারে। তবে আমি ভয় পাই না। কারণ আমার গোপন করার মত কিছু নেই। আমি কখনও অন্যায় কাজ করি না।