টেক্সটাইলে বাংলাদেশকে পিছনে ফেলে এগিয়ে এল ভারত

বাংলাদেশকে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের “গার্মেন্টস হাব” হিসেবে ধরা হয়। (India Textiles)কিন্তু সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি, শ্রম অস্থিরতা ও নতুন শুল্ক কাঠামো আন্তর্জাতিক পোশাক বাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইউরোপ ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
europe-uk-brands-shift-to-india-textiles-bangladesh-risk

বাংলাদেশকে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের “গার্মেন্টস হাব” হিসেবে ধরা হয়। (India Textiles)কিন্তু সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি, শ্রম অস্থিরতা ও নতুন শুল্ক কাঠামো আন্তর্জাতিক পোশাক বাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইউরোপ ও ব্রিটেনের একাধিক নামী ফ্যাশন ব্র্যান্ড এখন বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্রের দিকে তাকাতে শুরু করেছে আর সেই তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে ভারত।

শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক অস্থিরতা, শ্রমিক আন্দোলন এবং রফতানিতে ঝুঁকি বাড়ায় ইউরোপীয় ও ব্রিটিশ ক্রেতারা আর এক দেশের উপর পুরোপুরি নির্ভর করতে চাইছেন না। “সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখার ঝুঁকি কেউই নিতে চায় না,” এমনটাই মন্তব্য এক ইউরোপীয় রিটেল সাপ্লাই চেইন পরামর্শকের।

   

পাকিস্তানকে উড়িয়ে দেবে…! খোঁচা দিয়ে পরামর্শ প্রাক্তন ভারত তারকার

এই পরিস্থিতিতে ভারত–ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্ভাব্য ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট ভারতের টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল শিল্পের জন্য বড় সুযোগ এনে দিতে পারে। এই চুক্তি কার্যকর হলে ইউরোপীয় বাজারে ভারতীয় পোশাকের উপর শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, ফলে দাম পড়বে অনেকটাই সস্তা। বিশ্লেষকদের মতে, তখন ভারত শুধুমাত্র বাংলাদেশের সঙ্গে সমানতালে প্রতিযোগিতা করবে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অবস্থানে পৌঁছে যেতে পারে।

বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশ আন্ডার ডেভেলপড হওয়ায় কিছু শুল্ক সুবিধা পায়। কিন্তু আগামী দিনে সেই সুবিধা ধীরে ধীরে কমবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং শ্রম পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলির উদ্বেগ বেড়েছে। এই কারণেই ক্রেতারা ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও বিশেষ করে ভারতের দিকে নজর ঘোরাচ্ছেন।

ভারতের ক্ষেত্রে বড় সুবিধা হলো বৃহৎ কাঁচামাল ভাণ্ডার, সম্পূর্ণ ভ্যালু চেন, এবং দ্রুত স্কেল বাড়ানোর ক্ষমতা। তুলো থেকে শুরু করে ফিনিশড গার্মেন্টস পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া দেশের মধ্যেই সম্পন্ন করা যায়। ফলে সাপ্লাই চেইন আরও স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ হয়। এছাড়া, ভারতের উৎপাদন ক্ষমতা বিশাল এবং দেশটি একাধিক রাজ্যে টেক্সটাইল হাব গড়ে তুলেছে গুজরাট, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ এর উদাহরণ।

ইউরোপ ও ব্রিটেনের ব্র্যান্ডগুলির আরেকটি বড় চিন্তা হলো ESG (Environment, Social, Governance) মানদণ্ড। শ্রমিক সুরক্ষা, পরিবেশগত মান ও ট্রেসেবিলিটি নিয়ে ভারত গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। বহু ভারতীয় কারখানা এখন আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন নিয়ে কাজ করছে, যা পশ্চিমী ব্র্যান্ডগুলির আস্থা বাড়াচ্ছে।

শিল্প মহলের মতে, বাংলাদেশ পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলেও, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা আর আগের মতো এককভাবে ঢাকার উপর নির্ভর করবে না। বরং “China+1” নীতির মতোই এখন দেখা যাচ্ছে “Bangladesh+India” বা মাল্টি কান্ট্রি সোর্সিং কৌশল।

এই প্রবণতায় ভারত স্বাভাবিকভাবেই বড় লাভবান হতে পারে। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। শ্রম আইন, লজিস্টিক খরচ, বন্দর দক্ষতা এবং উৎপাদনের গতি এই বিষয়গুলিতে আরও উন্নতি দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবুও, ভারত–EU বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে এই সমস্যাগুলির অনেকটাই আংশিকভাবে সমাধান হতে পারে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google