নয়াদিল্লি: দেশের জ্বালানি নীতিতে এক বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে (Petrol)। কেন্দ্রীয় সরকার গুরুতরভাবে বিবেচনা করছে যে, পেট্রোল পাম্পগুলোতে আবার ইথানল-মুক্ত বিশুদ্ধ পেট্রোল (E0) বিক্রির ব্যবস্থা করা যায় কি না। E20 জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অনেক আগেই অর্জন করার পর এখন মোটরচালকদের অভিযোগ ও দাবির প্রতি সাড়া দিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
দৈনিক জাগরণের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।গত কয়েক বছরে ইথানল ব্লেন্ডিং প্রোগ্রাম দেশের জ্বালানি খাতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রার অনেক আগেই ২০২৫ সালের মধ্যে E20 (২০ শতাংশ ইথানল মেশানো পেট্রোল) সারাদেশে চালু হয়ে গেছে। এতে ক্রুড অয়েল আমদানি কমেছে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে লাখ লাখ কোটি টাকা এবং কৃষকদের আয় বেড়েছে।
আরও দেখুনঃ ‘নরেন্দ্র মোদীরও পালা আসবে, তাকেও ভাঙবে জনগণ!’ বিতর্কিত বক্তব্য বদরুদ্দিনের
আখ, ভুট্টা ও অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য থেকে ইথানল উৎপাদন বেড়ে চাষিদের নতুন আয়ের উৎস তৈরি হয়েছে। পরিবেশের দিক থেকেও এটি ইতিবাচক কার্বন নিঃসরণ কমেছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এই প্রোগ্রামের ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে এবং কয়েক লাখ কোটি টাকা কৃষকদের পকেটে গেছে।কিন্তু সাফল্যের পাশাপাশি সমস্যাও দেখা দিয়েছে।
অনেক মোটরচালক অভিযোগ করছেন যে, E20-এ মাইলেজ কমছে ১০-২০ শতাংশ। পুরোনো গাড়ি, মোটরসাইকেল ও কিছু নির্দিষ্ট মডেলে ইঞ্জিনের সমস্যা, জং ধরা বা পারফরম্যান্স হ্রাসের অভিযোগ উঠেছে। যদিও সরকার ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, আধুনিক BS6 ইঞ্জিন E20-এর জন্য উপযোগী এবং এতে ত্বরণ ভালো হয়, তবু বাস্তবে অনেকে অসন্তুষ্ট। ব্রাজিলের মতো দেশে চালকরা বিভিন্ন ব্লেন্ডের মধ্যে বেছে নিতে পারেন, কিন্তু ভারতে এখন শুধু E20-ই প্রধানত পাওয়া যায়।
আরও দেখুনঃ ইন্দোনেশিয়া থেকে ভারতে আসবে দুর্লভ খনিজ! মোদীর সফরে প্রযুক্তির দৌড়ে এগিয়ে ভারত
এটাই মূল অসন্তোষের কারণ।এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার এখন চিন্তা করছে আলাদা ডিসপেন্সারে বিশুদ্ধ পেট্রোল রাখার। এতে চালকরা তাদের গাড়ির সঙ্গে মানানসই জ্বালানি বেছে নিতে পারবেন। তবে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মূল্য নির্ধারণ। ইথানল-মুক্ত পেট্রোলের দাম স্বাভাবিকভাবেই বেশি হবে, কারণ ইথানল মেশানোয় সরকারি ছাড় ও সাশ্রয় হয়। আলাদা ডিসপেন্সার, স্টক ম্যানেজমেন্ট, রক্ষণাবেক্ষণ সব মিলিয়ে খরচ বাড়বে।
তেল কোম্পানিগুলোকে এই অতিরিক্ত ব্যয় সামলাতে হবে এবং সেই খরচ চালকদের ওপর চাপানো যাবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এটি হবে সাড়া দেওয়া শাসনের উদাহরণ। E20 সফল হয়েছে বলেই এখন চয়েস দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যারা পুরোনো গাড়ি চালান বা মাইলেজ নিয়ে খুব সচেতন, তারা বিশুদ্ধ পেট্রোল নিতে পারবেন যদিও দাম একটু বেশি পড়বে। অন্যদিকে, যারা পরিবেশ ও জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেন, তারা E20-ই বেছে নেবেন। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং সরবরাহও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
আরও দেখুনঃ সিআইএ এজেন্ট পরিচয় দিয়ে বিলিয়ন ডলারের চুক্তি! ইন্দোনেশিয়ায় ধরা পড়ল ভারতীয় ব্যবসায়ী





