নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকারের একটি নতুন নির্দেশিকায় দেশজুড়ে ১ এপ্রিল থেকে ২০% ইথানল মিশ্রিত পেট্রল (E20 petrol) বিক্রি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যার ন্যূনতম রিসার্চ অকটেন নম্বর (আরওএন) ৯৫ হবে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের ১৭ ফেব্রুয়ারি তারিখের একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সারা দেশের পেট্রোল পাম্পে এখন থেকে ইথানল-মিশ্রিত পেট্রলই প্রধান জ্বালানি হয়ে উঠবে, যা পরিবেশ রক্ষা, তেল আমদানি কমানো এবং কৃষকদের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তেল কোম্পানিগুলোকে ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (বিআইএস)-এর নির্ধারিত মান অনুসারে ২০% পর্যন্ত ইথানল মিশ্রিত মোটর স্পিরিট (পেট্রল) সরবরাহ করতে হবে, এবং এর ন্যূনতম আরওএন ৯৫ হতে হবে। এই নিয়ম সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রযোজ্য হবে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমিত সময়ের জন্য ছাড় দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।ই২০ পেট্রল মানে ২০% ইথানল এবং ৮০% সাধারণ পেট্রলের মিশ্রণ।
আরও দেখুনঃ ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল মহানগর কলকাতা
ইথানল প্রধানত আখ, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য থেকে উৎপাদিত হয়। আরওএন ৯৫-এর ন্যূনতম মান নির্ধারণ করা হয়েছে ইঞ্জিনে নকিং (অসমান দহন) প্রতিরোধ করতে এবং ইঞ্জিনের ক্ষতি রোধ করার জন্য। উচ্চ অকটেন রেটিং ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স ভালো রাখে, বিশেষ করে ইথানলের মতো অক্সিজেন-সমৃদ্ধ জ্বালানির ক্ষেত্রে।এই পদক্ষেপ ভারতের ইথানল ব্লেন্ডিং প্রোগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ২০২২ সালের জুনে দেশ ১০% ইথানল ব্লেন্ডিং লক্ষ্য পাঁচ মাস আগে অর্জন করেছিল।
এরপর সরকার ২০% ব্লেন্ডিংয়ের লক্ষ্য ২০৩০ থেকে এগিয়ে এনে ২০২৫-২৬-এ নিয়ে আসে। এখন এই নির্দেশিকা দিয়ে ই২০-কে জাতীয় স্তরে স্ট্যান্ডার্ড জ্বালানি করে তোলা হচ্ছে।এর সুবিধা অনেক। প্রথমত, এটি ক্রুড অয়েল আমদানি কমাবে, যা বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় করবে। ২০১৪-১৫ থেকে এ পর্যন্ত ইথানল ব্লেন্ডিংয়ের মাধ্যমে দেশ প্রায় ১.৪০ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় করেছে বলে মন্ত্রক জানিয়েছে। দ্বিতীয়ত, ইথানল একটি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, যা গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমায় এবং বায়ুর মান উন্নত করে।
তৃতীয়ত, আখ, ভুট্টা ও অন্যান্য ফসলের চাহিদা বাড়বে, যা কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করবে এবং অতিরিক্ত শস্যের ব্যবহার নিশ্চিত করবে।তবে গাড়ি মালিকদের জন্য কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। ২০২৩-২০২৫ সালের মধ্যে তৈরি বেশিরভাগ গাড়ি ই২০-এর জন্য ডিজাইন করা, তাই তাদের কোনো বড় সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
কিন্তু তার আগের গাড়িগুলোতে, বিশেষ করে প্রি-২০২২ মডেলে, ইথানলের উচ্চ মিশ্রণের কারণে মাইলেজ কমতে পারে, ইঞ্জিনে পরিধান বাড়তে পারে বা ফুয়েল সিস্টেমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরওএন ৯৫-এর নিয়ম ইঞ্জিন নকিং কমাবে, কিন্তু পুরনো গাড়ির মালিকদের সতর্ক থাকতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে ফুয়েল অ্যাডিটিভ বা ইঞ্জিন টিউনিং দরকার হতে পারে।



