নয়াদিল্লি: ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি দিল্লির কর্তব্য পথে ভারতের যে সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শিত হলো, তার কেন্দ্রে ছিল ডিআরডিও-র (DRDO) তৈরি লং রেঞ্জ অ্যান্টি-শিপ মিসাইল (LR-AShM)। বিজ্ঞানী ও প্রজেক্ট ডিরেক্টর এ. প্রসাদ গৌড়ের নেতৃত্বে এই মিসাইলটি যখন রাজপথে এল, তখন ভারতের প্রতিরক্ষা ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। মূলত নৌবাহিনীর উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বা ‘কোস্টাল ব্যাটারি’-র প্রয়োজন মেটাতেই এই হাইপারসোনিক মিসাইল তৈরি করা হয়েছে।
কী এই LR-AShM? কেন এটি মারণাস্ত্র?
এটি একটি হাইপারসোনিক গ্লাইড মিসাইল, যা ১৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানতে পারে। এর গতির কাছে হার মানবে বিশ্বের যেকোনো আধুনিক রাডার।
অবিশ্বাস্য গতি: এটি শব্দের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি গতিতে (Mach 10) উৎক্ষেপণ করা যায় এবং গড় গতি বজায় থাকে ৫ Mach (প্রায় ৬,০০০ কিমি/ঘণ্টা)।
রাডার ফাঁকি দিতে ওস্তাদ: সাধারণত ক্ষেপণাস্ত্রগুলি উঁচু আকাশ দিয়ে এলেও এই মিসাইল নিচু উচ্চতা দিয়ে অত্যন্ত দ্রুত ও আঁকাবাঁকা পথে (Manoeuvrability) এগোয়। ফলে শত্রুপক্ষের জাহাজ বা গ্রাউন্ড রাডার একে শনাক্ত করার আগেই এটি লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কেন এটি ‘গেম-চেঞ্জার’? DRDO Long Range Anti-Ship Missile
হাইপারসোনিক মিসাইল হাতে থাকা মানে যুদ্ধের ময়দানে কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকা। বর্তমানের কোনো মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম বা অ্যান্টি-মিসাইল গান দিয়ে একে আটকানো প্রায় অসম্ভব। এটি লঞ্চ হওয়ার পর থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা পর্যন্ত সময় এতটাই কম নেয় যে শত্রু পক্ষ পালটা আক্রমণের সুযোগই পায় না। এটি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের রণকৌশলগত শক্তিকে পাহাড়প্রমাণ উচ্চতায় নিয়ে গেল।
কীভাবে কাজ করে এই মিসাইল?
LR-AShM মূলত দুই পর্যায়ে কাজ করে। প্রথম পর্যায়ে একটি সলিড-প্রপেল্যান্ট রকেট বুস্টার একে বিশাল উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গ্লাইড ভেহিকলটি প্রচণ্ড গতিতে বায়ুমণ্ডলে নেমে আসে। উন্নত স্যাটেলাইট নেভিগেশন এবং ইন্টারশিয়াল গাইডেন্স সিস্টেমের সাহায্যে এটি মাঝ আকাশেই গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। শেষ পর্যায়ে এটি ‘অ্যাক্টিভ রাডার’ ব্যবহার করে সমুদ্রের চলমান যুদ্ধজাহাজকে খুঁজে বের করে তাকে ধ্বংস করে দেয়।
এবারের ডিআরডিও-র ট্যাবলোর থিম ছিল ‘সাবমেরিন যুদ্ধের নৌ-প্রযুক্তি’। এই প্রদর্শনী বিশ্বকে স্পষ্ট বার্তা দিল—ভারত এখন কেবল ক্রেতা নয়, আধুনিকতম সমরাস্ত্র তৈরিতেও স্বয়ংসম্পূর্ণ।



