ওয়াশিংটন: আগামী বছরের শুরুতেই সম্ভবত ভারত সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার ওয়াশিংটন ডিসি-তে এমনই ইঙ্গিত দিলেন আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যেকার ব্যক্তিগত রসায়ন যে অত্যন্ত মজবুত এবং ভারত-মার্কিন সম্পর্ক এখন “দুর্দান্ত” জায়গায় রয়েছে, সে কথাও সংবাদসংস্থা আইএএনএস (IANS)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন তিনি। (Donald Trump India Visit 2027)
ট্রাম্পের ভারত সফর
মার্কিন বিদেশসচিব জানিয়েছেন, আগামী বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে জোরকদমে কাজ চলছে। এই সফরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে চলতি বছরের শেষেই তিনি নিজে ভারতে আসতে পারেন বলে জানিয়েছেন রুবিও। উল্লেখ্য, এই সফর বাস্তবায়িত হলে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির পর এটাই হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম ভারত সফর। পাশাপাশি, দ্বিতীয়বারের জন্য হোয়াইট হাউসে ফেরার পরও এটি হবে তাঁর প্রথম ভারত সফর। এর আগে ফ্রান্সের এভিয়ানে জি-৭ (G7) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প ও মোদী, যা ছিল দীর্ঘ ১৬ মাস পর তাঁদের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎ।
বাণিজ্য চুক্তি ও কোয়াড
ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে বলে জানিয়েছেন মার্কিন বিদেশসচিব। তিনি বলেন, “আলোচনা দুর্দান্ত এগোচ্ছে। আমরা চুক্তিটি চূড়ান্ত করার একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছি এবং বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক।” এছাড়া আগামী দিনে ‘কোয়াড’ (Quad) গোষ্ঠীর আরও একটি বৈঠকের দিকেও দুই দেশ তাকিয়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।
মোদীর ভূয়সী প্রশংসা
সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন মার্কো রুবিও। নিজেকে মোদীর “ফ্যান” বা অনুরাগী বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মোদীর নেতৃত্বেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থান আরও মজবুত হয়েছে। রুবিওর কথায়, “মোদী ভারতকে একটি বিশ্বশক্তি (Global Power)-তে পরিণত করেছেন।”
জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা
জ্বালানি বা এনার্জি ক্ষেত্রেও দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন মার্কিন বিদেশসচিব। তিনি জানান, জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে আমেরিকা ও ভারত একযোগে কাজ করছে। ভারী অপরিশোধিত তেল (heavy crude) শোধন করার মতো প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বিশ্বের হাতেগোনা যে কয়েকটি দেশের রয়েছে, ভারত তার মধ্যে অন্যতম বলে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি।



