নয়াদিল্লি: কার্গিল যুদ্ধের সেই অমর নায়ক ‘বোফর্স’ কামানের নাম আজও ভারতীয় সেনার গর্ব (Dhanush)। সেই বোফর্সের আধুনিক, আরও শক্তিশালী এবং সম্পূর্ণ দেশীয় সংস্করণ এখন প্রস্তুত নাম ধনুষ। ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) এবং অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই ১৫৫ মিমি ক্যালিবারের টোয়েড হাউইৎজার শত্রুর জন্য নতুন দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠতে চলেছে।
প্রায় ৩৮ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত গোলাবর্ষণ করার ক্ষমতা নিয়ে ধনুষ আজ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ফায়ারপাওয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।বোফর্স ছিল ১৫৫ মিমি/৩৯ ক্যালিবারের কামান, যার সর্বোচ্চ পাল্লা ছিল প্রায় ২৭-২৮ কিলোমিটার। ধনুষ সেই একই প্রযুক্তির উন্নত সংস্করণ ৪৫ ক্যালিবারের এই কামানটি সাধারণ গোলাতেই ৩৮ কিলোমিটার এবং বিশেষ অ্যামুনিশন ব্যবহারে আরও বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম।
আরও দেখুনঃ হিসেবে গড়বড়! রাম মন্দিরের ভক্তদের দানে বড়সড় রদবদল
এর ব্যারেল দীর্ঘতর, নির্ভুলতা বেশি এবং শুট-অ্যান্ড-স্কুট ক্ষমতা উন্নত। অর্থাৎ গোলা ছুড়ে ফেলেই অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে দ্রুত, যা আধুনিক যুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।ধনুষের সবচেয়ে বড় শক্তি তার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। এতে রয়েছে অটোমেটিক গান অ্যালাইনমেন্ট সিস্টেম এবং ইলেকট্রনিক সাইটিং সিস্টেম। ফলে ক্রু সদস্যদের হাতে অনেক কম চাপ পড়ে এবং নির্ভুলতা বহুগুণ বেড়ে যায়।
একসঙ্গে তিন থেকে ছয়টি কামান একই লক্ষ্যে গোলাবর্ষণ করতে পারে। বার্স্ট মোডে ১৫ সেকেন্ডে ৩টি, ইনটেন্স মোডে ৩ মিনিটে ১৫টি এবং সাসটেইন্ড মোডে এক ঘণ্টায় ৬০টি গোলা ছুড়তে সক্ষম এই কামান। ওজন মাত্র ১৩ টনের কাছাকাছি হওয়ায় পাহাড়ি এলাকা, সীমান্তের দুর্গম অঞ্চলেও সহজে মোতায়েন করা যায়।
সেনা সূত্রে জানা গেছে, ধনুষের ইন্ডিজেনাস কনটেন্ট প্রায় ৮০ শতাংশেরও বেশি। খুব অল্প কিছু উপাদানই আমদানি করতে হয়। জাবলপুরের গান ক্যারেজ ফ্যাক্টরিতে তৈরি এই কামান ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের অন্যতম সাফল্য। ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীতে বেশ কয়েকটি ধনুষ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং আরও শতাধিক কামান সরবরাহের পরিকল্পনা চলছে। ভবিষ্যতে ৫২ ক্যালিবারের উন্নত সংস্করণও আসতে পারে, যার পাল্লা ৪২ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যাবে।



