নয়াদিল্লি: দিল্লির ঐতিহ্যবাহী জিমখানা ক্লাবের ২৭.৩ একর বিশাল (Gymkhana Club)জমি নিয়ে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। মোদী সরকার ক্লাবকে সাফদরজং রোডের প্রিমিস থেকে উচ্ছেদ করতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকার আদালতে উচ্ছেদ মামলা দায়ের করেছে। জমিটি প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো, জননিরাপত্তা এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।দিল্লি জিমখানা ক্লাব দীর্ঘদিন ধরে শহরের অভিজাত মহলে পরিচিত।
ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা এই ক্লাবটি রাজনীতিবিদ, আমলা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মিলনকেন্দ্র। সবুজ গাছপালা, টেনিস কোর্ট, সুইমিং পুল ও বিশাল মাঠ নিয়ে বিস্তৃত এই ক্লাবের জমি এখন সরকারি দখলে নেওয়ার উদ্যোগে অনেকে অবাক হয়েছেন। ক্লাব কর্তৃপক্ষ বলছে, এই জমি তাদের দীর্ঘদিনের দখলে রয়েছে এবং তারা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।কেন্দ্রীয় সরকারের যুক্তি হল, রাজধানীর মাঝখানে এত বড় জমি ব্যক্তিগত বা ক্লাবের ব্যবহারে রাখা আর সম্ভব নয়।
আরও দেখুনঃ পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মেলানোর আর্জি ফারুখ-মেহবুবার! জঙ্গিদের সমর্থক আখ্যা বিজেপির
প্রতিরক্ষা খাতে পরিকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং জনসাধারণের ব্যবহারযোগ্য স্থান তৈরির জন্য এই জমি প্রয়োজন। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দিল্লির ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও নগরায়ণের চাপে পাবলিক পারপাসে জমির প্রয়োজন বাড়ছে। তাই পুরনো ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।জিমখানা ক্লাবের সদস্যরা অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলে মনে করছেন। অনেকে বলছেন, ক্লাবটি শুধু বিনোদনের জায়গা নয়, এটি দিল্লির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের অংশ।
ক্লাবের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করে জানান, “এখানে প্রতিদিন শত শত মানুষ আসেন। হঠাৎ করে উচ্ছেদের মামলা দায়ের করা অন্যায়। আমরা আদালতে লড়ব।” ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁরা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান এবং বিকল্প জায়গার দাবি জানাবেন।এই ঘটনা দিল্লির জমি ব্যবহার নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। রাজধানীতে অনেক পুরনো প্রতিষ্ঠান ও ক্লাব সরকারি জমিতে রয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে অনেকে ‘জমির সঠিক ব্যবহার’ বলে সমর্থন করছেন।
বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতে উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তাঁরা বলছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতেই পারে। অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, এটি অভিজাতদের বিরুদ্ধে একটি পদক্ষেপ, যা সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধা বাড়াবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
দিল্লি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ডিডিএ) ও কেন্দ্রীয় আবাসন মন্ত্রকের সঙ্গে যুক্ত সূত্র জানিয়েছে, জমিটি পাবলিক পারপাসে ব্যবহারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা চলছিল। আদালতে মামলা দায়েরের মাধ্যমে প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এখন আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন, তা দেখার অপেক্ষায় সবাই।





