কোয়েম্বাটোরের ব্যস্ত রাস্তায় বুধবার দেখা গেল ব্যাতিক্রমী দৃশ্য। যা মানুষের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে (Communal Harmony)। অথর জামাত মসজিদ যাকে অনেকে ‘বিগ মসজিদ’ বলেও ডাকেন এর সঙ্গে যুক্ত মুসলিমদের হিন্দুদের সেবা করতে দেখা গেল। ওপ্পানাকারা স্ট্রিটে দাঁড়িয়ে কোনিয়াম্মান মন্দিরের রথযাত্রায় অংশ নেওয়া হিন্দু ভক্তদের হাতে বিনামূল্যে পানীয় জলের বোতল তুলে দিলেন তারা। এই ছোট্ট কিন্তু অর্থপূর্ণ কাজটি শহরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
কোনিয়াম্মান মন্দির কোয়েম্বাটোরের হৃদয়স্থলে অবস্থিত একটা প্রাচীন ও জনপ্রিয় মন্দির। প্রতি বছর এখানে রথযাত্রা বা ‘থের’ উৎসব হয়, যা লক্ষাধিক ভক্তকে একত্রিত করে। রথটি ফুল-মালায় সাজানো, বিশালাকার, আর ভক্তরা দড়ি টেনে তাকে শহরের রাস্তা দিয়ে ঘুরিয়ে নিয়ে যান। গান-ভজন, ঢাক-ঢোলের তালে মেতে ওঠে সবাই। গরমের দিনে, ভিড়ের মধ্যে হেঁটে চলা বা রথের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা ভক্তদের জন্য জল একটা বড় প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায়।
আরও দেখুন: রাজৌরিতে সেনা তৎপরতায় ব্যর্থ জঙ্গি অনুপ্রবেশ
আর ঠিক সেই সময়ে, যখন রথযাত্রা ওপ্পানাকারা স্ট্রিট দিয়ে যায়। যেখানে অথর জামাত মসজিদ অবস্থিত। তখন মসজিদের সদস্যরা রাস্তার ধারে লাইন দিয়ে দাঁড়ান। হাত বাড়িয়ে জলের বোতল দেন, হাসিমুখে শুভেচ্ছা জানান। এটা শুধু তৃষ্ণা মেটানো নয়, এটা একটা বার্তা ধর্মের নামে বিভেদ নয়, মানুষের জন্য মানুষ। এই উদ্যোগের ইতিহাস বেশ পুরনো। ২০২০ সালে এটা প্রথমবার বড় করে খবর হয়, যখন জামাত কমিটির সভাপতি এ. শানাওয়াজের নেতৃত্বে প্রায় ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ বোতল জল বিতরণ করা হয়।
তখন থেকে এটা একটা ঐতিহ্যের মতো হয়ে উঠেছে। মসজিদের লোকেরা বলেন, “আমরা জানতাম যে রথযাত্রার সময় ভক্তরা ক্লান্ত ও তৃষ্ণার্ত হবেন। সকালেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, দুপুর থেকে জল বিতরণ শুরু করা যাক।” এই কাজে মসজিদের কমিটি, যুবকরা, স্বেচ্ছাসেবকরা সবাই যোগ দেন। রথ যখন মসজিদের সামনে দিয়ে যায়, তখন ভক্তরা হাত বাড়ান, জল নেন, অনেকে ধন্যবাদ জানান, হাত জোড় করে নমস্কার করেন। এই মুহূর্তগুলো ছবির মতো সুন্দর।
কোনিয়াম্মান মন্দিরের রথযাত্রা কোয়েম্বাটোরের সবচেয়ে বড় উৎসবগুলোর একটা। রথ রাজা স্ট্রিট থেকে শুরু হয়ে চেট্টি স্ট্রিট, ভাইসিয়াল স্ট্রিট হয়ে ওপ্পানাকারা স্ট্রিট দিয়ে ঘুরে আসে। লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েন। অনেক সংগঠন, দোকানদার, রাজনৈতিক দলও ভক্তদের জন্য বাটারমিল্ক, খাবার, জল বিতরণ করে। কিন্তু মসজিদের এই উদ্যোগ বিশেষ কারণ এটা দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সরাসরি সেতুবন্ধন। অথর জামাত মসজিদ শতাব্দীপ্রাচীন, রমজান-বকরিদে এখানে ভিড় জমে। আর কোনিয়াম্মান মন্দিরও শহরের রক্ষাকর্ত্রী দেবী হিসেবে বিখ্যাত। দুটো ধর্মীয় স্থান এত কাছে, আর প্রতি বছর রথযাত্রা মসজিদের সামনে দিয়ে যায় এটা যেন প্রকৃতিরই একটা ব্যবস্থা সম্প্রীতির জন্য।



















