ভারত-চিন সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন এক পদক্ষেপ নিল বেজিং। (China new county)চিন সরকার সম্প্রতি শিনজিয়াং অঞ্চলে একটি নতুন কাউন্টি গঠন করেছে, যার নাম রাখা হয়েছে ‘সেনলিং। এই নতুন প্রশাসনিক এককটি অত্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তৈরি করা হয়েছে কারাকোরাম পর্বতমালার নিকটে, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) এবং আফগানিস্তানের সীমান্তের খুব কাছেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়, বরং এর গভীরে রয়েছে স্পষ্ট কৌশলগত বার্তা। নতুন এই কাউন্টিটি কারাকোরাম রেঞ্জের কাছাকাছি অবস্থিত, যা সামরিক ও ভূরাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে এটি কাশগার প্রিফেকচার র অধীনে রাখা হয়েছে, যা শিনজিয়াংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অঞ্চল।
আরও দেখুনঃ মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রেকর্ড প্রাইজমানি ঘোষণা, জয়ীদের বড় অঙ্ক
চিনের এই পদক্ষেপকে বৃহত্তর একটি কৌশলের অংশ হিসেবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। গত এক বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই শিনজিয়াংয়ে এটি তৃতীয় নতুন কাউন্টি গঠন। এর আগে হিন এবং হিকাঙ নামে দুটি নতুন কাউন্টি তৈরি করেছিল বেজিং, যা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে হিন কাউন্টি নিয়ে ভারতের আপত্তি ছিল প্রবল। কারণ, সেই এলাকার একটি অংশ আকসাই চিনের অন্তর্গত বলে দাবি করে ভারত। এই অঞ্চলটি ১৯৬২ সালের সিনো ইন্ডিয়ান যুদ্ধের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু।
নতুন সেনলিং কাউন্টি গঠনের ক্ষেত্রেও ভারতের উদ্বেগ একই রকম। নয়াদিল্লি আগেই জানিয়ে দিয়েছে, লাদাখের কিছু অংশকে নিজেদের প্রশাসনিক মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার যে কোনও প্রচেষ্টা তারা মেনে নেবে না। ভারতের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ একতরফা এবং তা সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এই নতুন কাউন্টির অবস্থানও অত্যন্ত সংবেদনশীল। এটি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর এবং আফগানিস্তানের সীমান্তের কাছে হওয়ায়, এই অঞ্চলে চিনের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে চিন সহজেই এই করিডর অঞ্চলে নজরদারি বাড়াতে পারবে এবং প্রয়োজনে সামরিক বা পরিকাঠামোগত কার্যক্রমও জোরদার করতে পারবে। ভূরাজনৈতিক দিক থেকে এই অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (CPEC)-এর কাছাকাছি। ফলে নতুন কাউন্টি গঠনের মাধ্যমে চিন তার অর্থনৈতিক ও সামরিক স্বার্থকে আরও সুসংহত করতে চাইছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ভারত ইতিমধ্যেই এই ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কূটনৈতিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও একই অবস্থান বজায় রাখবে বলে স্পষ্ট করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনিক পরিবর্তনের মাধ্যমে চিন ধীরে ধীরে নিজের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ভারতের জন্য কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।



















