অমুসলিম ব্যাক্তির সঙ্গে মুসলিম বিবাহে এবার লাগবে ওয়াকফ বোর্ডের ছাড়পত্র! সিদ্ধান্ত গেরুয়া রাজ্যে

রায়পুর: ছত্তিশগড় সরকার আন্তঃধর্মীয় বিবাহ নিয়ে এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। (Chhattisgarh)এখন থেকে কোনো অমুসলিম ব্যক্তি যদি মুসলিম ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহ করতে চান, তাহলে ওয়াকফ বোর্ডের…

chhattisgarh-interfaith-marriage-rules

রায়পুর: ছত্তিশগড় সরকার আন্তঃধর্মীয় বিবাহ নিয়ে এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। (Chhattisgarh)এখন থেকে কোনো অমুসলিম ব্যক্তি যদি মুসলিম ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহ করতে চান, তাহলে ওয়াকফ বোর্ডের অনুমতি নিতে হবে। আগামী আগস্ট ২০২৬ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে। বিবাহের সব আইনি প্রক্রিয়া, পূর্ণাঙ্গ ডকুমেন্টেশন ও নথিপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

রাজ্যের সব মৌলবীদের নিকাহ অনুষ্ঠানের জন্য নিবন্ধন করতে হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত স্বচ্ছতা আনা, অপব্যবহার রোধ এবং অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।ছত্তিশগড়ের এই পদক্ষেপ রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাইয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার বলছে, আন্তঃধর্মীয় বিবাহে প্রায়ই জোরপূর্বক ধর্মান্তর, প্রতারণা ও অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে।

আরও দেখুনঃ ভারতের নতুন রিফাইনারির স্টিল দিয়ে তৈরী হতে পারে ৪০টি আইফেল টাওয়ার! ঘোষণা মোদীর

এসব রোধ করতে ওয়াকফ বোর্ডের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিবাহের আগে উভয় পক্ষের সম্মতি, বয়স, পরিচয়পত্র, আয়ের প্রমাণসহ সব নথি জমা দিতে হবে। মৌলবীদের নিবন্ধন না থাকলে নিকাহ অনুষ্ঠান করা যাবে না। এতে অবৈধ বিবাহ ও তার ফলে সৃষ্ট জটিলতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, এই নিয়ম শুধুমাত্র স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য।

কোনো ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। বরং উভয় পক্ষের অধিকার রক্ষা করা হবে। বিশেষ করে নারীদের সুরক্ষা নিয়ে সরকার সতর্ক। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রেমের নামে ধর্মান্তর করে পরে অস্বীকার করা হয়। এসব ঘটনা রোধ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে।

আরও দেখুনঃ শোপিয়ানে ভারতীয় সেনার এনকাউন্টারে ৭২ হুর পেল লস্করের শীর্ষ কমান্ডার গনি

ওয়াকফ বোর্ড তদন্ত করে অনুমতি দেবে।বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। একটি মহিলা অধিকার সংগঠনের নেত্রী বলেন, “অনেক মেয়ে প্রেমের ফাঁদে পড়ে ধর্মান্তরিত হয়ে পরে ঠকেছে। এখন আইনি সুরক্ষা বাড়বে।” তবে কিছু মুসলিম সংগঠন এই নিয়মকে ধর্মীয় হস্তক্ষেপ বলে সমালোচনা করেছে। তারা বলছে, বিবাহ ব্যক্তিগত বিষয়। সরকারের এমন নিয়ম সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করতে পারে। সরকার জবাবে বলেছে, এটি কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। বরং সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা।

আরও দেখুনঃ কাশ্মীর এনকাউন্টার: ৪ দিনের অভিযানের পর খতম লস্কর কমান্ডার জাকির গনাই