মোদীর ডাকে আজ সর্বদলীয় বৈঠক, মধ্যপ্রাচ্য সংকটে কড়া পদক্ষেপের পথে ভারত?

নয়াদিল্লি: ইরান বনাম ইজরায়েল-আমেরিকা যুদ্ধ ভারতকে এক চরম অগ্নিপরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। খনিজ তেল ও রান্নার গ্যাসের (LPG) তীব্র সংকটে জেরবার দেশ। এই জরুরি…

Modi CCS Meeting Energy Security

নয়াদিল্লি: ইরান বনাম ইজরায়েল-আমেরিকা যুদ্ধ ভারতকে এক চরম অগ্নিপরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। খনিজ তেল ও রান্নার গ্যাসের (LPG) তীব্র সংকটে জেরবার দেশ। এই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আজই দিল্লিতে এক হাই-ভোল্টেজ সর্বদলীয় বৈঠক ডাকল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই দেশবাসীকে ‘করোনাকালের মতো’ কঠিন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তা দিয়েছেন। আজকের এই বৈঠক থেকে ভারত কোনো বড়সড় কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটবে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

রণকৌশল সাজাতে সক্রিয় কেন্দ্র

সাউথ ব্লক সূত্রে খবর, আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। যুদ্ধ পরিস্থিতির অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বিরোধী দলগুলির মতামত নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গতকালই তিন বাহিনীর প্রধান ও শীর্ষ সেনা আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। বর্তমান যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতের সামরিক প্রস্তুতিকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

   

বিরোধীদের অবস্থান ও তৃণমূলের ‘ধোঁয়াশা’ India Oil LPG Crisis

সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা ওয়াক আউট করেছিলেন। বর্তমানে বাংলার ভোট প্রচারে অধিকাংশ সাংসদ ব্যস্ত থাকায় আজকের বৈঠকে ঘাসফুল শিবির যোগ দেবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর বিদেশনীতিকে ‘ইউনিভার্সাল জোক’ বলে তীব্র আক্রমণ শানালেও, আজকের সর্বদলীয় বৈঠকে কংগ্রেস যোগ দিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্র চাইছে, বিশেষ করে যে দলগুলি বিভিন্ন রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে, তাদের প্রতিনিধিদের এই আলোচনায় শামিল করতে।

‘বড় পরীক্ষা’র মুখে দেশ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিপূর্বেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ফোনে কথা বলেছেন। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সংকট আগামী দিনে ভারতের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে। রাজ্যগুলির সহযোগিতা ছাড়া এই জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকট কাটানো অসম্ভব।

আজকের এই সর্বদলীয় বৈঠকের পর কি পেট্রোল-ডিজেল বা গ্যাসের দামে কোনো বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে? নাকি সামরিক ক্ষেত্রে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে ভারত? সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।