বারামতি: বুধবার সকালে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গেল মহারাষ্ট্রের রাজনীতি। পুণে জেলার বারামতি বিমানবন্দরের কাছে ভেঙে পড়ল রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের চার্টার্ড বিমান ‘লিয়ারজেট ৪৫’। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অজিত পওয়ারসহ বিমানে থাকা ছয়জনই প্রাণ হারিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুই অভিজ্ঞ পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত কাপুর এবং ক্যাপ্টেন শাম্ভবী পাঠকের নিথর দেহ।
শেষ মুহূর্তে কী ঘটেছিল?
মুম্বই থেকে সকাল ৮টা নাগাদ ওড়ার পর সব ঠিকই ছিল। কিন্তু বারামতি বিমানবন্দরের কাছাকাছি পৌঁছাতেই বিপত্তি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অবতরণের ঠিক আগে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আছড়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ও আগুন ধরে যায়। ভিএসআর এভিয়েশনের শীর্ষ কর্তা ভিকে সিং জানিয়েছেন, দৃশ্যমানতা কম থাকায় পাইলটরা একবার অবতরণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন (Missed Approach)। দ্বিতীয়বার চেষ্টা করার সময় ভয়াবহ এই বিপর্যয় ঘটে।
দুই সুদক্ষ ককপিট সেনানী: চিনে নিন দুই পাইলটকে Captains of Ajit Pawars jet
এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে দুই অভিজ্ঞ বিমানচালকের৷ ক্যাপ্টেন শাম্ভবী পাঠক ও ক্যাপ্টেন সুমিত কাপুর৷ পাইলট-ইন-কমান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন শাম্ভবী। এক সেনা আধিকারিকের কন্যা শাম্ভবী মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি করার পর নিউজিল্যান্ড থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, ১৬,০০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ওড়ার অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর। সাহারা এবং জেট এয়ারওয়েজের মতো নামী সংস্থায় কাজ করা সুমিত ছিলেন বিমান চালনার জগতে অতি পরিচিত এক মুখ।
“বিমানটি ছিল ১০০ শতাংশ ফিট”, দাবি সংস্থার
যান্ত্রিক ত্রুটির জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে সংস্থার আধিকারিক ভিকে সিং জানান, “আমাদের জানামতে বিমানটি একদম ফিট ছিল। কোনো কারিগরি সমস্যা ছিল না। ক্যাপ্টেন সুমিত আমার বন্ধুর মতো ছিলেন এবং শাম্ভবী ছিলেন আমার সন্তানের মতো। অত্যন্ত দক্ষ হয়েও খারাপ আবহাওয়ার কাছে তাঁরা হার মানলেন।”
তদন্তে ডিজিসিএ (DGCA)
কেন এই দুর্ঘটনা? ঘন কুয়াশা ও শূন্য দৃশ্যমানতাই কি একমাত্র কারণ, নাকি নেপথ্যে অন্য কিছু? তা খতিয়ে দেখতে ডিটেইল্ড ইনভেস্টিগেশন শুরু করেছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন। ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করে ফ্লাইটের শেষ মুহূর্তের তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
৬৬ বছর বয়সী অজিত পওয়ার যাচ্ছিলেন আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক সভায় যোগ দিতে। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই নিভে গেল মারাঠা রাজনীতির অন্যতম শক্তিশালী এই ব্যক্তিত্বের জীবন।





